Collector
‘পানির নিচে পচে যাচ্ছে ধান, আমরা না খেয়ে মরব’ | Collector
‘পানির নিচে পচে যাচ্ছে ধান, আমরা না খেয়ে মরব’
Somoy TV

‘পানির নিচে পচে যাচ্ছে ধান, আমরা না খেয়ে মরব’

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওড়াঞ্চলে অন্তত ৩ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। এ অবস্থায় স্বপ্নের সোনালী ফসল পানির নিচ থেকে কাটছেন কৃষক। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে নির্বাক তারা। কষ্ট আর হতাশা যেন পিছু ছাড়ছে না কিছুতেই।নাসিরনগর মেদির হাওর অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, হাওড়ে আগাম বানের পানি আসায় কৃষকের সোনালী আধাপাকা ধানগুলো পানির নিচে তলিয়ে আছে। দৈনিক ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক ভাড়া করে হাওড়ের আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষক। তবে ইতোমধ্যে ডুবে থাকা আধাপাকা ধানগুলোতে পচন ধরতে শুরু করছে। এতে হতাশা গ্রাস করছে হাওড়ের কৃষকদের। নাসিরনগরের মহাকাল পাড়ার কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তিনি ২০ কানি (৪০ শতকে ১ কানি) জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। মাত্র ৫ কানি জমির ধান পানির নিচ থেকে কেটে আনতে পেরেছেন। এখনও ১৫ কানি জমির ধান পানির নিচে তলীয়ে আছে। কী করবেন বুঝতে পারছেন না।আক্ষেপ করে কৃষক আবুলাল বলেন, ‘দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে সুদি এনে জমিতে ধান রোপণ করে ছিলেন। আশা ছিল ধান বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করবেন। কিন্তু আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে।’আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, বছরে একটি মাত্র ফসল নষ্ট হয়ে গেল। এখন খাব কী? আর চলব কীভাবে? বুঝতে পারছি না। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।’শ্রীপুর গ্রামের নারায়ন দাস আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘পানির নিচে তার ধানি ফসণি জমি ডুবে আছে। চার কানি জমিতে তিনি বিআর-২৯ জাতের ধান লাগিয়ে ছিলেন। আর দুই সপ্তাহ সয়র পেলে ধানগুলো বাড়িতে নিতে পারতেন। তবে ধান কাটার আগ মুহূর্তে অকাল বন্যার দেখা দেয়ায় তার জমির ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে।’ আরও পড়ুন: বন্ধুদের নিয়ে বাবার ধান কেটে সহযোগিতা করলেন তৃতীয় লিঙ্গের আদরিতিনি জানান, একটি মাত্র ফসলের ওপর পুরো বছর তার পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই ফসল এখন পানির নিয়ে গেল।’ হতাশাগ্রস্ত কৃষক নারায়ণ দাস আরও জানান, ‘পানির নিচ থেকে কেটে আনা একমন ধানের দাম বর্তমান বাজারে ৬শ’ টাকা। আর একজন ধান কাটার শ্রমিককে দিতে হয় দৈনিক ১৪০০ টাকা। পানির নিচ থেকে ধান কেটে এনে কী করব? তাই ধানের জমির দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি, পানি যদি কমে, তাহলে কিছু ধান পাবো হয়তো।’নাসিরনগর পশ্চিম পাড়া এলাকার কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, ‘২০ বিঘা ধান পানির নিচেে। ধান কাটব কী?  তিনি বলেন, ধানের চেয়ে শ্রমিকের মুজুরি মূল্য বেশি।নির্বাক চোখে হাওড়ে তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাবুল বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না করলে আমরা না খেয়ে মরব।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কৃষি বিভাগের কেউ এসে খবর নেয় না। জনপ্রতিনিধিও কৃষকের পাশে নেই। কী করবে হাওড়ের কৃষকরা, তাদের কান্না শোনার কেউ নেই।’আরও পড়ুন: হাওরাঞ্চলের ৬ জেলায় ধান-চাল সংগ্রহে নতুন সিদ্ধান্তজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, কৃষিবিদ ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা বানের পানিতে হাওড়ে প্রায় ৩০ ভাগ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বছর জেলায় ১ লাখ ১১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। নতুন জাতের ধানের আবাদ করার কারণে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। হাওরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, অকাল বন্যায় লক্ষ্যমাত্রায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। অপরদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নুর আলী জানান, এ বছর সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ৫৫ মেট্রিকটন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন।কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি বরো মৌসুমে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে ৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিকটন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১হাজার ৭শ ৬৪ কোটি টাকা।

Go to News Site