Collector
খাগড়াছড়িতে ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ | Collector
খাগড়াছড়িতে ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ
Somoy TV

খাগড়াছড়িতে ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ

খাগড়াছড়িতে শ্রেণিকক্ষ সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং পর্যাপ্ত মাঠের অভাবে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। জেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কর্তৃপক্ষ জরাজীর্ণ ঘোষণা করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান।বর্ষা মৌসুমে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। টিনের চালা চুঁইয়ে পানি পড়ার পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ তলিয়ে যাওয়ায় দিনের পর দিন বন্ধ থাকে ক্লাস। খাগড়াছড়ি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শব্দমিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রায় পাঁচ যুগ পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির আধুনিক কোনো ভবন নেই। ঝুঁকিপূর্ণ একটি টিনশেড ভবনে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় সংকীর্ণ বারান্দায় প্রতিদিনের সমাবেশ করতে হয়। নেই খেলার মাঠ ও পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা। বর্ষাকালে শ্রেণিকক্ষের টিন চুঁইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি। বন্যায় কখনও কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায় পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ, যার ফলে বাধ্য হয়েই পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। একই অবস্থা পৌর শহরের আনন্দ নগর ও লক্ষ্মীমুড়া প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। অন্যদিকে জেলা সদরের গোলাবাড়ী ইউনিয়নে ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সরকার আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) মাধ্যমে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভবন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। ইউ টি মং কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।  আরও পড়ুন: ৪ বছরেও শেষ হয়নি হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, ব্যাহত পাঠদান খাগড়াছড়ির জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষের চাল চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি, ফলে চরম ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ছবি: সময় সংবাদ ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ সময়েও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষ কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। দ্রুত ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শব্দমিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম এবং হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ঝিংকু চাকমা জানান, অবকাঠামো সংকট ও পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ৫৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শুভাশীষ বড়ুয়া ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘দ্রুত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।’ এই সংকট নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে চলছে নদী-খাল দখলের মহোৎসব দীর্ঘ চার বছরেও ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় এমন জরাজীর্ণ বেড়ার ঘরেই চলছে হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ছবি: সময় সংবাদ সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম জানান, খাগড়াছড়ির জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা সরেজমিন কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দ্রুত ভবন নির্মাণের চেষ্টার কথা জানিয়েছেন। এলজিইডি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এগুলো দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় ভবনের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণেও কাজের গতিশীলতা কমে গিয়েছিল।’ তবে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Go to News Site