Somoy TV
জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন এ ঘোষণা দিয়েছে।ন্যাটো জোটভুক্ত সদস্য জার্মানি থেকে এই সেনা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাস ধরে চল ইরান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেনা সংখ্যা কমানোর হুমকি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পরপরই ট্রাম্প দেশটি থেকে সেনা কমানোর হুমকি দিয়েছিলেন। গত সোমবার মের্ৎস বলেছিলেন, দুই মাসের এ যুদ্ধ থামানোর আলোচনা চালাতে গিয়ে ইরানিদের কাছে ‘অপদস্থ’ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, এ যুদ্ধ থেকে বের হতে যুক্তরাষ্ট্র কোন কৌশল নেয়ার কথা ভাবছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, সেনা প্রত্যাহারের হুমকি নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেন্টাগনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জার্মানির সাম্প্রতিক বক্তব্য ‘অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’। প্রেসিডেন্ট এসব প্রতিকূল মন্তব্যের যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পেন্টাগনের তথ্যমতে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউরোপে মার্কিন সেনা সংখ্যা ২০২২ সালের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন সেখানে সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছিল। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে: ইরান পেন্টাগনের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউরোপকে ধীরে ধীরে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেই নিতে হবে—এমন নীতিগত অবস্থান থেকেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর আগে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করা ন্যাটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। এর মধ্যে স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা এবং যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়ও রয়েছে।
Go to News Site