Collector
যুদ্ধের মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি | Collector
যুদ্ধের মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি
Somoy TV

যুদ্ধের মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি

ইরান যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে ৭৪ হাজারের বেশি জনশক্তি বিদেশে গেছে। তবে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ওমানে সংকট থাকায় চট্টগ্রাম থেকে কিছুটা কমলেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া।সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও কুয়েত বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির প্রধান গন্তব্য। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি বেড়েছে। জনশক্তি রফতানি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলা থেকে ৩ লাখ ২২ হাজার ২৯১ জন বিদেশে গেছেন। আর চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৪৯১ জনে। চট্টগ্রাম কর্মসংস্থান ও জনশক্তি ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, যুদ্ধের কারণে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও জনশক্তি রফতানি অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কর্মী যাচ্ছে সৌদি আরবে। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও কর্মী যাচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বোয়েসেলের মাধ্যমে জাপান ও কোরিয়ায় জনশক্তি পাঠানো হচ্ছে। ইতালি ও জর্ডানেও কর্মী যাচ্ছে, আর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। আরও পড়ুন: ‘ফ্রি ভিসার ফাঁদ’: মালদ্বীপে ভোগান্তি ও বেকারত্বের শিকার বহু বাংলাদেশি গত বছর জনশক্তি রফতানিতে শীর্ষে ছিল কুমিল্লা, এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চতুর্থ অবস্থানে ছিল চট্টগ্রাম। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার এইচ সিদ্দিকী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রফতানি মূলত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। আগে সবচেয়ে বেশি কর্মী যেত সংযুক্ত আরব আমিরাত, এরপর সৌদি আরব ও ওমানে। তবে বর্তমানে এই তিন দেশে ভিসা জটিলতা দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিকভাবে এ সমস্যা সমাধান করা গেলে আবার আগের মতো জনশক্তি রফতানি বাড়বে। দেশের বড় অংশের রেমিট্যান্স আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইরান যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বাতিল ও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটেছে, যার প্রভাবও জনশক্তি রফতানিতে পড়েছে। অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেতে আগ্রহী চট্টগ্রামের অনেক মানুষ। কাতারগামী এক ব্যক্তি বলেন, তিনি সেখানে ড্রাইভিং কাজ করতে চান এবং কাতারের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো হওয়ায় সেখানে যাওয়ার আগ্রহ বেশি। আরেকজন সৌদি আরবগামী ব্যক্তি জানান, তার আত্মীয় সেখানে কাজ করেন এবং তিনি ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই অঞ্চলের ১১ জেলার প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান।

Go to News Site