Collector
রেকর্ড রাজস্ব আদায় বিএফডিসি রাঙ্গামাটি শাখায় | Collector
রেকর্ড রাজস্ব আদায় বিএফডিসি রাঙ্গামাটি শাখায়
Somoy TV

রেকর্ড রাজস্ব আদায় বিএফডিসি রাঙ্গামাটি শাখায়

রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখা। কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর থেকে এবারই সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন বৃদ্ধি, অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ওজন প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশনসহ নানা উদ্যোগকে এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশের মিঠা পানির মাছের অন্যতম বৃহৎ উৎস কাপ্তাই হ্রদে বছরে প্রায় ৯ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে মাছ আহরণ করা হয়। এখানে আহরিত ছোট মাছের মধ্যে চাপিলা, কাচকি এবং কার্পজাতীয় মাছের মধ্যে রুই, কাতলা, কালিবাউস, আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এসব মাছ বিএফডিসির বিভিন্ন অবতরণ কেন্দ্রে রাজস্ব পরিশোধ শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।বিএফডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয় ১১.২৬ কোটি টাকা। পরের বছর তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১১.০১ কোটি টাকায়। এরপর ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব কমলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫.৫৮ কোটি টাকায়। তবে সেই রেকর্ডও ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, যেখানে রাজস্ব দাঁড়ায় ২২.৫৫ লাখ টাকা—যা কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের তুলনায় ৩.৯০ কোটি টাকা বেশি।পরিকল্পিত মৎস্য আহরণ এবং ব্যবস্থাপনার ফলে শুধু বিএফডিসিই নয়, লাভবান হয়েছেন ব্যবসায়ী ও জেলেরা।রাঙ্গামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী করিম হোসেন বলেন, ‘এবছর যথাসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় হ্রদের পানির পরিমাণ বেড়েছে। ফলে জেলেরা বেশি সময় মাছ ধরতে পেরেছে, যার ফলেই এই রাজস্ব বৃদ্ধি।’সেলিম হোসেন বলেন, ‘একদিকে মাছ বেশি ধরা হয়েছে, অন্যদিকে কেজি প্রতি রাজস্বও বাড়ানো হয়েছে, যার কারণে এই রেকর্ড অর্জিত হয়েছে।’আরও পড়ুন: কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে মধ্যরাত থেকেমাছ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর শুক্কুর মিয়া বলেন, ‘সরকারের আয় বাড়ায় আমরা খুশি। তবে কেজি প্রতি রাজস্ব না বাড়িয়ে সঠিক মনিটরিং করা হলে আয় আরও বাড়ানো সম্ভব। অবতরণ ঘাটে বেশি রাজস্ব দিতে হওয়ায় অনেক সময় চোরাই পথে মাছ নেওয়া হয়। এটি বন্ধ করতে রাজস্ব কমানো হলে সবাই বৈধ পথে মাছ পরিবহন করবে, এতে আয়ও বাড়বে।’অপর ব্যবসায়ী মাহাফুজ হোসেন বলেন, ‘মাছ ধরার সময়সীমা নির্ধারণ করায় এমন সাফল্য এসেছে। শুরুতে অনেকে নিয়ম মানতে না চাইলেও পরে সবাই মানায় শেষ পর্যন্ত সবাই লাভবান হয়েছে। মাছের আকার বড় হওয়ায় ওজন বেড়েছে, ফলে বিএফডিসি বেশি রাজস্ব পেয়েছে, আমরাও ভালো দাম পেয়েছি।’বিএফডিসি রাঙ্গামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, ‘মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরিকল্পনা, অবতরণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ওজন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনই আমাদের এই সফলতার মূল চাবিকাঠি। আগামীতে অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব আরও বৃদ্ধি করা হবে। মাছের উৎপাদন বাড়াতেও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। এই হ্রদে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ২৬ হাজার জেলে।

Go to News Site