Somoy TV
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্তের কথা জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ। শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি জানানো হয়।যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন তারা। ২৪ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকায় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন হিশাম আবুঘরবেহ নামে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিককে সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। তবে এতদিন বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যাচ্ছিল না।শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে কায়াক (ছোট নৌকা) চালিয়ে মাছ ধরার সময় এক জেলের শনাক্ত করা একটি দুর্গন্ধযুক্ত কালো ময়লার ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে নাহিদা বৃষ্টির নিথর দেহ। হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারতিনি জানান, ওই কায়াকচালক মাছ ধরার সময় তার ছিপের সুতা একটি ঝোপের মধ্যে আটকে যায়। সুতা ছাড়াতে তিনি যখন ঝোপের ভেতর যান, তখন তীব্র দুর্গন্ধ পান। প্লাস্টিকের ব্যাগটি খোলা ছিল এবং ভেতরে লোনাপানি প্রবেশ করেছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান এবং তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।মরদেহটিতে পচন ধরে যাওয়ায় ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ড নিয়ে পরীক্ষা করতে হয় তদন্তকারীদের। তবে নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টি যে পোশাক পরেছিলেন, মরদেহে সেই ধরনের পোশাক ছিল। এটি দেখে প্রাথমিকভাবে ধরে নেয়া হয় মরদেহটি বৃষ্টির।শেরিফ ক্রনিস্টার জানান, বৃষ্টির মরদেহের অবস্থার কারণে তাকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পুলিশকে ডেন্টাল রেকর্ড ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। ৩০ এপ্রিল তা সম্পন্ন হয়েছে।এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বলেছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরইমধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথভাবে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল এর আগে গত ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি আদালতে নথি দাখিল করা হয়। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আদালতে জমা দেয়া নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে। এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহ’র বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন এলাকায় আরও একটি অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একটি ফৌজদারি মামলার হলফনামায় বলা হয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণে একটি মরদেহ (খন্ডিত অংশ) উদ্ধার করা হয়। ওই মরদেহের পরনে থাকা পোশাকের সঙ্গে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে শেষবার নাহিদা বৃষ্টিকে দেখা যাওয়ার সময় তার পরনে থাকা পোশাকের মিল রয়েছে। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে রুমমেটের হাতে খুনের শিকার লিমনকে অশ্রু-ভালোবাসায় সহপাঠীদের শেষবিদায় হলফনামায় বলা হয়, ‘উল্লেখ করা প্রয়োজন, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে নাহিদা বৃষ্টিকে শেষবার যে আলাদা ধরনের পোশাকে দেখা গেছে, মরদেহটির পরনে থাকা পোশাকের সঙ্গে তার মিল আছে, দুটোই একই ধরনের পোশাক।’ এদিকে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। জানা গেছে, মরদেহটি দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে সোমবার ৪ মে।
Go to News Site