Somoy TV
সামান্য বৃষ্টিতের রংপুর নগরীর কয়েকটি সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওইসব এলাকার মানুষ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।সরেজমিন দেখা গেছে, গ্রামের মতো শহরের নিচু এলাকাগুলো এখন পানিতে থইথই। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। নগরীর বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনী, লালবাগ, পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, নীলকণ্ঠ সোটাপীর ও শান্তিবাগসহ অন্তত ১০টি এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।অনেক জায়গায় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে রাস্তায় চলে আসায় দুর্গন্ধের কারণে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ময়লা পানি দিয়েই চলাচল করছেন। অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কারও কারও বিছানায় পর্যন্ত পানি উঠেছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে পানি ঢুকে পড়েছে; যার ফলে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠান। এমন দুর্ভোগে পড়েছেন এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষ। জানা যায়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাস্তাঘাট, অলিগলি ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। একইসঙ্গে শ্যামাসুন্দরী ও কেডি ক্যানেলে পানি বাড়ায় কিছু ব্যস্ততম সড়ক ও নিম্নাঞ্চলেও হাঁটুপানি জমেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার এমন দুর্বলতায় নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।আরও পড়ুন: অতিবৃষ্টিতে যে ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কাআবহাওয়া অফিস বলছে, শনিবার (২ মে) সকাল পর্যন্ত মহানগরীতে ৬৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত এক সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০৮ মিলিমিটার। এই সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা ফুটে উঠেছে। রংপুর শহরের নিচু এলাকাগুলো এখন পানিতে থইথই। ছবি: সময় সংবাদকয়েকদিন ধরে রংপুরে থেমে থেমে হওয়া এমন বৃষ্টিতে তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীর নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। আর রংপুর নগরীর অলিগলিসহ বিভিন্ন সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি করপোরেশন একের পর এক রাস্তা নির্মাণ করেছে, কোথায় কোথায় অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করেছে। আবার অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার কোথায় ড্রেন থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার বা সংস্কার করা হয় না। ফলে অল্প বৃষ্টিতে ভরে যাচ্ছে ওসব এলাকা। আবার কোথাও বৃষ্টির পানি নেমে যেতে না পারায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।আরও পড়ুন: জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে রূপগঞ্জের খালগুলোর পুনঃখনন জরুরিচারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘এই এলাকায় কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছি। প্রতি বছরই বৃষ্টির মৌসুমে আমাদের এলাকা ডুবে যায়। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা শুধু ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কারের আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এভাবেই বছরের পর বছর চলছে। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবে না। নেতারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেন।’এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসান বলেন, ‘আমাদের নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কোনো মাস্টার প্লান না থাকায় এই অবস্থা হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, ইতোমধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টার প্লানের জন্য ভালো কনসালটিং ফার্মের প্রতিনিধি এসব ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিদর্শন করে গেছে। মাস্টার প্লান মতো কাজ হলে আর হয়তো এসব সমস্যা হবে না।’তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, সেই সব স্থানে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। সাময়িকভাবে যে সমাধান সেটা করার চেষ্টা চলছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।’আরও পড়ুন: ভোরের বৃষ্টিতে ডুবল ঢাকা: সাতসকালেই নাজেহাল নগরবাসীএ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও দুই থেকে তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়ে রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ ও আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।’
Go to News Site