Somoy TV
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। হকারদের দেয়া হচ্ছে পরিচয়পত্র, যেখানে থাকবে তাদের বিস্তারিত তথ্য ও নির্দিষ্ট স্টল নম্বর। প্রশাসকরা জানান, নির্দিষ্ট ফি দিলে এলাকাভিত্তিক ব্যবসার সুযোগ মিলবে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের শঙ্কা, বরাদ্দে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে এই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে।রাজধানীতে ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদ যেন দীর্ঘদিনের ইঁদুর-বিড়াল খেলা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। স্থায়ী সমাধানের দাবি জানাতে জানাতে ক্লান্ত নগরবাসী। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার চাঁদাবাজির চক্র। প্রভাবশালীদের নিয়মিত টাকা দিয়েই হকারদের ব্যবসা চালাতে হয়। তবে এই চক্র ভাঙতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দুই সিটি করপোরেশন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহায়তায় হকারদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গুলিস্তানের রমনা ভবন সংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় সাদা দাগ কেটে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আরও পড়ুন: উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হকারদের একটি পরিচয়পত্র দেয়া হবে, যাতে একটি চিপ থাকবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম সময় সংবাদকে বলেন, চিপ স্ক্যান করলে হকারের সব তথ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি থাকবে নম্বর প্লেট, যেখানে উল্লেখ থাকবে কোন এলাকায় ও কোন সময়ে একজন হকার ব্যবসা করবেন। এ জন্য নির্ধারিত ফিও দিতে হবে। প্রথমে খেলার মাঠে হকারদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও শিশু-কিশোরদের কথা বিবেচনায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রশাসন। এখন নির্দিষ্ট স্পট ঠিক করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম মূলত পরিচয়পত্র দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, খেলার মাঠে হকার বসানো যাবে না। তাই যেখানে যানজটের আশঙ্কা কম, সেসব এলাকায় তাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। স্থায়ী দোকান বসানোর সুযোগ থাকবে না, ট্রলি ব্যবস্থায় ব্যবসা করতে হবে এবং দিন শেষে নির্দিষ্ট স্থানে তা রাখতে হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সংস্থাটির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে। কারণ হকারদের রাস্তায় দোকান বসানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। আরও পড়ুন: ডিজিটাল পরিচয়পত্র পেলেন ডিএনসিসির হকাররা, মিলল বসার নির্দিষ্ট স্থান এদিকে মাঠপর্যায়ে দুই সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করলেও হকারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা জানান, কোথাও কোথাও পুলিশ এসে তালিকা করে নিয়ে গেলেও এখনও সবার তালিকা হয়নি। কোথায় জায়গা দেয়া হবে, সেটিও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের শঙ্কা, বরাদ্দের ক্ষেত্রে যদি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অগ্রাধিকার পায়, তাহলে এই পুনর্বাসন উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, কাকে বিবেচনায় নেয়া হবে আর কাকে নেয়া হবে না; সেই বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। কারণ লাখ লাখ হকারকে একসঙ্গে পুনর্বাসন সম্ভব নয়, তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এগোতে হবে। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দে যদি রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতি থাকে, তাহলে ভালো উদ্যোগও ব্যর্থ হতে পারে। হকারদের পুনর্বাসনে কিউআর কোডের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক পরিচয় নিশ্চিত করাও জরুরি। পরিচয়পত্র ও পুনর্বাসনের এই নতুন উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত হকারদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি আগের মতোই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে; সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site