Somoy TV
বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের কষ্টের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়তি মজুরি ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ধান কাটছেন। বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকানো নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা।কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর সমান পানি; দেশের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় এমন অবস্থার মধ্যেই তলিয়ে আছে পাকা ধান। এতে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় নেত্রকোনার সরমুশিয়া হাওরে কৃষকেরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাঠে নেমে ধান কাটছেন। অনুমান করে পানির নিচের ধান কাটতে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও বজ্রপাতের আতঙ্কে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যেটুকু ধান কেটে আনা সম্ভব হচ্ছে, সেটিও শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। চাষিরা জানান, পানিতে ধান তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে, বজ্রপাতের ভয়ে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামী একসপ্তাহ উজানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে ফসল রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ১৭৮ কিলোমিটার বাঁধ। এগুলো আসলে দীর্ঘ সময় রক্ষার করার ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বিভিন্ন জায়গায় দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা তৈরি করতে পারে। আরও পড়ুন: হাওরাঞ্চলের ৬ জেলায় ধান-চাল সংগ্রহ শুরু আজ এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও সরাইল অঞ্চলে এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ধান পানির নিচে রয়েছে। এতে প্রান্তিক কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। তারা বলেন, দিন অবস্থা ভালোর বদলে খারাপ হচ্ছে। কিশোরগঞ্জের বেশিরভাগ নদীর পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সেখানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। নিজ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৩ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন করেছেন কৃষকেরা। তারা বলেন, ৭০০-১০০০ টাকা দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না, ঠাণ্ডার কারণে কাজ করতে পারছে না। এছাড়া মৌলভীবাজারে প্রায় এক হাজার ৪৩২ হেক্টর এবং হবিগঞ্জে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে রয়েছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে না পারায় বড় অংশের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। এদিকে, হাওরাঞ্চলের ৬ জেলায় আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মে থেকে অনুষ্ঠেয় বোরো ধান সংগ্রহ শুরুর সঙ্গে আগে নির্ধারিত চাল সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে থেকে এগিয়ে এনে ৩ মে নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে আজ থেকেই এসব এলাকায় শুরু হচ্ছে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এর মধ্যে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল কেনা হবে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং প্রতি কেজি আতপ চালের সংগ্রহ মূল্য ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান-চালের পাশাপাশি ৩৬ টাকা দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমও কেনা হবে। এ সংগ্রহ অভিযান ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
Go to News Site