Collector
নাহিদের জালমি নাকি চমক দেখানো হায়দরাবাদ, পিএসএল শিরোপার লড়াইয়ে কারা এগিয়ে | Collector
নাহিদের জালমি নাকি চমক দেখানো হায়দরাবাদ, পিএসএল শিরোপার লড়াইয়ে কারা এগিয়ে
Somoy TV

নাহিদের জালমি নাকি চমক দেখানো হায়দরাবাদ, পিএসএল শিরোপার লড়াইয়ে কারা এগিয়ে

ধারাবাহিকতা আর মোমেন্টামের দ্বৈরথে জমে ওঠার ইঙ্গিত পাকিস্তানের সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসরের ফাইনাল। একদিকে পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফেভারিট হয়ে ওঠা পেশোয়ার জালমি, অন্যদিকে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া হায়দরাবাদ কিংসমেন। শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই বিপরীতমুখী ও ভিন্ন ক্রিকেটীয় দর্শনের।জালমি এই আসরে ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই তাদের শক্ত অবস্থান। দলের সাফল্যের মূল ভরকেন্দ্র বাবর আজম ও কুশল মেন্ডিস। লিগের দুই শীর্ষ রানসংগ্রাহক তারা। তাদের দৃঢ়তায় ওপেনিংয়ে মোহাম্মদ হারিস খেলতে পারেন নির্ভার ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। বোলিং বিভাগে সুফিয়ান মুকিম রয়েছেন উইকেট তালিকার শীর্ষে, নিয়মিত ভাঙছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। পাশাপাশি ইফতিখার আহমেদ বল হাতেও কার্যকর অবদান রাখছেন, আর তরুণ আলি রাজা গতি দিয়ে বাড়তি ধার যোগ করেছেন। ফাইনালের আগে জালমির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। তার দলে অন্তর্ভুক্তি জালমির বোলিং আক্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, যা ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। আরও পড়ুন: ডিপিএলের তিন রাউন্ডের সূচি প্রকাশ, কে কার মুখোমুখি তবে কিংসমেনকে শুধুমাত্র পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। এই দলের শক্তি তাদের অদম্য মানসিকতা ও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের সেরা খেলাটা বের করে আনার ক্ষমতায়। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের শেষ ওভারে প্রতিপক্ষকে ৬ রান না নিদে দিয়ে  হুনাইন শাহ নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। উসমান খান অপ্রচলিত ব্যাটিং স্টাইল নিয়েও প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য হয়ে উঠেছেন বড় হুমকি। আর অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন, যিনি প্রথমবার টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব দিয়েই দলকে ফাইনালে তুলে এনে চমক দেখিয়েছেন। শেষ আট ম্যাচে সাত জয়; এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, কিংসমেন এখন দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। মোমেন্টামের দিক থেকে তারা এগিয়ে, আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই ‘ফ্যাক্টর’ অনেক সময় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। এদিকে ব্যক্তিগত লড়াইয়েও নজর থাকবে কয়েকজনের দিকে। জালমির অধিনায়ক বাবর এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং আর মাত্র এক রান করলেই পিএসএলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়বেন। অন্যদিকে কিংসমেনের গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এখনো পুরোপুরি জ্বলে ওঠেননি, তবে বড় ম্যাচে তার অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা কিংসমেনের বড় অস্ত্র হতে পারে। দলগত দিক থেকে জালমিতে নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তির কারণে একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে, যেখানে খুররম শাহজাদ জায়গা হারাতে পারেন। কিংসমেন অবশ্য একই দল ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। শিরোপার লড়াইয়ে নামার আগে জালমির অধিনায়ক গণমাধ্যমকে বাবর বলেছেন, ‘শিরোপা জেতা প্রতিটি অধিনায়কের স্বপ্ন। তবে চাপ সামলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ আরও পড়ুন: শেষ ওভারের রোমাঞ্চে ইসলামাবাদকে হারিয়ে ফাইনালে হায়দরাবাদ অন্যদিকে কিংসমেনের অধিনায়ক লাবুশেন বলেন, ‘নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’ সবকিছু মিলিয়ে কাগজে-কলমে এগিয়ে জালমি। তাদের ভারসাম্য, ধারাবাহিকতা এবং স্কোয়াড গভীরতা তাদের ফেভারিট করে তুলেছে। তবে ক্রিকেট শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। কিংসমেন যদি ম্যাচকে স্নায়ুচাপে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে তাদের মোমেন্টামই হতে পারে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এখন দেখার, শিরোপা উঠবে নাহিদ রানার জালমির হাতে, নাকি চমক দেখানো কিংসমেনের রূপকথা পূর্ণতা পায়।

Go to News Site