Jagonews24
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যত্রতত্র ময়লার স্তূপ ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় রাজবাড়ী পৌরসভা এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রবে জনজীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভা কাগজে-কলমে ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পেলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা, যত্রতত্র ময়লার স্তূপ এবং ইজিবাইকের তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ড্রেন পরিষ্কার না করায় সমস্যা চরমে পৌঁছেছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বর্জ্য ও পানি জমে তৈরি করছে দুর্গন্ধ। এতে মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে গেছে। বড় বাজার, পান্না চত্বর, বিনোদপুর, সজ্জনকান্দা ও হাসপাতাল সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আরও পড়ুন- মেয়র পদে লড়তে চাকরি ছাড়লেন পৌরসভার স্টোরকিপারমাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই চলছে দেড়শো বছরের পুরোনো পৌরসভাপৌরসভার অবহেলায় শোধনাগার বন্ধ, বিশুদ্ধ পানি সংকটে ৬০০ পরিবার স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ময়লার দুর্গন্ধে বসবাস কষ্টকর হয়ে উঠেছে। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও নাগরিক সুবিধা মিলছে না। এছাড়া বড়পুল, নতুন বাজার, মুরগি ফার্ম ও রেলগেট এলাকায় যানজট নিত্যদিনের সমস্যা। ‘পৌর এলাকায় বসবাস করেও বাড়িতে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে নিজ খরচে বাঁশের মাঁচা তৈরি করেছি। ছয় মাস পরপর তা মেরামত করতে হয়। ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে আছে।’ বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা জয়ন্ত দাস বলেন, ‘পৌর এলাকায় বসবাস করেও বাড়িতে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে নিজ খরচে বাঁশের মাচা তৈরি করেছি। ছয় মাস পরপর তা মেরামত করতে হয়। ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে আছে।’ অটোরিকশা চালক নান্নু মিয়া ও কাশেস সরদার জানান, ‘রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা হওয়ায় যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গর্তে পড়ে যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে, যাত্রীরাও আহত হচ্ছেন।’ বড় বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম ও নিমাই চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার পানিতে তলিয়ে যায়। দুর্গন্ধ ও মশার কারণে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ আরও পড়ুন- বকেয়া বিল ‘পরিশোধ না করায়’ শপিংমলের সামনে ময়লার স্তূপময়লার শহর সাতক্ষীরা!আবর্জনায় ভরা ডোবা-নালা, দুর্গন্ধ-মশায় অতিষ্ঠ পৌরবাসীগণঅভ্যুত্থানের পর জ্বলেনি শহরের ২৬৬ সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতি সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল আল মামুন সম্রাট বলেন, মূল ড্রেন সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় আশপাশের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তবে উন্নয়নে কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তবে উন্নয়নে কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’ পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত সদর হাসপাতাল, ভবনীপুর ও এতিমখানা সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি এসব সড়ক নির্মাণে প্রায় ১৯ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, রাজবাড়ী শহরকে বাসযোগ্য করতে সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে। এফএ/এমএস
Go to News Site