Collector
মা ছেড়ে গেছেন আগেই, এবার গেলেন বাবাও, কী হবে ছোট্ট মুসলিমার | Collector
মা ছেড়ে গেছেন আগেই, এবার গেলেন বাবাও, কী হবে ছোট্ট মুসলিমার
Somoy TV

মা ছেড়ে গেছেন আগেই, এবার গেলেন বাবাও, কী হবে ছোট্ট মুসলিমার

জন্মের ২১ দিনের মাথায় মা ছেড়ে চলে যান, আর দুই বছর পেরোতেই জনতার পিটুনিতে প্রাণ হারালেন বাবা। এতিম হয়ে গেল ছোট্ট শিশু মুসলিমা ইসলাম (২ বছর ৫ মাস)। এখন তার ভরসা বৃদ্ধ দাদা-দাদি, যাদের চোখে এখন শোকের পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। কিছু বুঝে উঠার আগেই সব হারিয়ে ফেললো শিশুটি।রোববার (৩ মে) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামে নিহত ট্রাকচালক হান্নান শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এ হৃদয় বিদারক দৃশ্য।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্না আর মানুষের ভিড়ের মাঝেই কিছু না বুঝে কখনো দাদির কোলে, কখনো অন্যের কোলে ঘুরছে শিশু মুসলিমা। ফিডারে দুধ খাচ্ছে, আবার হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে উঠছে।এ দিকে মা ও বাবাকে অসহায় হয়ে পড়েছে ছোট্ট মুসলিমা। মা-বাবাহীন এই শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বৃদ্ধ দাদা-দাদির পক্ষে কতদিন তার দায়িত্ব বহন করা সম্ভব তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। শিশুটির জন্য সরকারি ও সামাজিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগপরিবারের সদস্যরা জানান, মুসলিমার মা আরিফা বেগম তার জন্মের ২১ দিন পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে দাদা শাহিদ শেখ ও দাদী নার্গিস বেগমই তাকে লালন-পালন করে আসছেন।দাদি নার্গিস বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মুসলিমার জন্মের ২১ দিন পর তার মা চলে গেছে, বাপটাকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। আমার মুসলিমার কেউ রইল না। আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আর কয়দিন বাঁচবো আমরা, ওকে দেখবে কে, বড় করবে কে।নিহতের বাবা শাহিদ শেখ বলেন, আমার ছেলে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। সে অপরাধ করে থাকলে আইনের হাতে তুলে দেয়া যেত। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলো যশোরে শুভেচ্ছা জানানো সেই শিশুস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাক একাধিক পথচারীকে ধাক্কা দেয়, এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে স্থানীয়রা ইট-ব্লক ফেলে রাস্তা অবরোধ করে ট্রাকটি থামায়। এ সময় চালক হান্নান শেখ (৪৫) ও দুই সহযোগী নাঈম (২২) এবং আল-আমিনকে (২৫) ট্রাক থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক চালক হান্নানকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই সহযোগী নাঈম ও আল-আমিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ওই রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, পরে দাফন সম্পন্ন করেন পরিবারের সদস্যরা।আরও পড়ুন: টেবিলের নিচে ফেলে যাওয়া সেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতিতিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে; তারা আজ রোববার (৩ মে) বিকালে থানায় মামলা দিতে আসবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।ওসি রাসুল সামদানী আজাদ জানান, নিহত হান্নানের নামে কোতোয়ালি থানায়, নগরকান্দা থানায় ও নাটোর সদর থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা ছিল বলে জানান ওসি।

Go to News Site