Collector
ইরান এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি: ট্রাম্প | Collector
ইরান এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি: ট্রাম্প
Jagonews24

ইরান এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাছাড়া গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের প্রতি দেশটি যা করেছে, তার জন্য এখনো ‘যথেষ্ট বড় মূল্য’ দেয়নি। শনিবার (২ মে) ইরানের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটির প্রসঙ্গে শনিবার (২ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটা নিয়ে পরে আপনাদের জানাবো। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমি কল্পনাও করতে পারি না এটি গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের প্রতি তারা যা করেছে, তার জন্য এখনো যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যে যুদ্ধ শুরু করে, তার মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়া বা সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তিনি আরও বলেন, ইরান উভয় পথের জন্যই প্রস্তুত। ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, এমন কোনো চুক্তি ছাড়া তারা যুদ্ধ শেষ করবে না, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে হামলা শুরুর সময় ট্রাম্প এ লক্ষ্যকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। রয়টার্সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম গত সপ্তাহে জানিয়েছে, তেহরান পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের আগেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বশেষ ১৪ দফা প্রস্তাবে ইরান চেয়েছে- নিজেদের চারপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। পাশাপাশি প্রণালিটির জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, তারা যদি ‘খারাপ আচরণ’ করে, তাহলে দেখবো। তবে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে- হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে টোল দিলে জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এতে প্রণালিটি নিয়ে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, ইরানকে শুধু নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, অফসেট, অনানুষ্ঠানিক বিনিময় বা অন্যান্য পণ্যভিত্তিক লেনদেন এমনকি, দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদানও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান প্রণালিটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সার সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে, ফলে তেহরান তার দুর্বল অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় তেল আয়ের বড় অংশ হারাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান এসএএইচ

Go to News Site