Jagonews24
ভেজাল ওষুধ ও অপচিকিৎসা রোধে সারাদেশে মোবাইল টিমের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অবৈধ ও অপরিকল্পিত ক্লিনিকগুলোতে মোবাইল টিমের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে হবে, যেন অপচিকিৎসা ও রোগী হয়রানি বন্ধ করা যায়। একই সঙ্গে ডিসপেনসারিতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি রোধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রোববার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয় উঠে এসেছে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত অনেক হাসপাতাল ভবন এখনো অসমাপ্ত বা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব স্থাপনা দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অপারেশন থিয়েটার ও লেবার রুমে কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি সামনে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স সংকট, হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি, ভেজাল ওষুধ বিক্রি এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির মতো সমস্যাগুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে ব্রেস্টফিডিং বা মাতৃদুগ্ধ পান বাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এ বিষয়ে কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন এবং সাপের কামড়ের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাম প্রতিরোধে চলমান টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ৮১ শতাংশ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং দ্রুত ১০০ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মৃত্যুহারও কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্লাটুন কমান্ডারসহ ১০ জন করে আনসার সদস্য দেওয়া হবে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। এএএইচ/ইএ
Go to News Site