Jagonews24
২৮ বছর বয়সী খাদিজা বেগম। শুয়ে আছেন হাসপাতালের বেডে। চিকিৎসক কথা বলতে মানা করেছেন। চিকিৎসকের কথায় নিশ্চুপ অবস্থায় শুয়ে থাকলেও তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। পাশে বসে আছে খাদিজার তিন শিশু সন্তান। অপলক চোখে খাদিজা এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। কী যেন খুঁজছেন তিনি। কোনো কিছু না দেখে পরক্ষণেই চোখের পলক ফেলতেই ফের অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে বালিশে। বাকরুদ্ধ অবস্থায় কখনো অচেতন হয়ে পড়ছেন তিনি। রোববার (৩ মে) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার তেতলীবাজার এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক খাদিজা বেগম। এ ঘটনায় তার স্বামী বদরুজ্জামানসহ আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। বদরুজ্জামান (৪৫) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে। খাদিজা ও তার স্বামী বদরুলেই দুজনই নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। রোববার ভোরে একসঙ্গে কাজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন খাদিজা। বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এলেও খাদিজার যেন আক্ষেপের শেষ নেই। কারণ দুর্ঘটনার সময় তাকে বাঁচিয়ে পরপারে চলে গেছেন স্বামী। বীভৎস ওই মুহূর্তটি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তিনি। চিকিৎসক কথা বলতে মানা করলেও মৃদু স্বরে খাদিজা বেগম বলেন, ‘আজকে সকালে চা খেয়ে একসঙ্গে আমরা বের হয়েছিলাম। আমি তার পাশেই বসেছিলাম। যখনই ট্রাক আমাদের পিকআপ ভ্যানকে আঘাত করলো, তখন তিনি (স্বামী) আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলেন। তারপর কী হয়েছে বলতে পারি না।’ আরও পড়ুন: সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮তিন বছর আগে বড় সন্তান, এবার দুই ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা নিহত বদরুজ্জামানের ছোট ভাই আলাউর মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভাই-ভাবি একসঙ্গে কাজ করতেন। আজকেও একসঙ্গে কাজে গিয়েছিলেন। তবে রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই মারা যান। শুনেছি পিকআপে ঢালাইয়ের কাজ করার মেশিনের নিচে চাপা পড়ে তিনি মারা গেছেন।’ তিনি জানান, তার ভাইয়ের চার সন্তান। তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়েই তাদের সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বদরুজ্জামান। তাকে হারিয়ে পরিবারটি অথৈ সাগরে পড়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি চারজন হাসপাতালে আনার পর মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা আহত রয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাটা আমরা আগে করছি। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য যা করা প্রয়োজন সবই করা হবে।’ এর আগে রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় সিলেটের লালাবাজার এলাকায় ঢালাই কাজে যাওয়ার জন্য নগরীর আম্বরখানা থেকে একটি ডিআই পিকআপভ্যানে করে রওয়ানা দেন ১৫ জন শ্রমিক। ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে দক্ষিণ সুরমার তেতলী এলাকায় পিকআপটি পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে আটজন নিহত হন। নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ইদ্রিস আলীর স্ত্রী নার্গিস, দিরাই উপজেলার বসির মিয়ার মেয়ে মুন্নি মনি, নূর সালামের ছেলে ফরিদুল ও মৃত ফখরুল আলীর ছেলে সুরুজ আলী এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের কুঠির বিশ্বাসের ছেলে পান্ডব বিশ্বাস ও পুটামারা গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে বদরুল জামান, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আজির উদ্দিন ও তার ভাই আমির উদ্দিন। আহমেদ জামিল/এসআর/এমএস
Go to News Site