Somoy TV
হাওড়ে অব্যাহত কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মেদির হাওড়ের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় আরো ২০০ হেক্টরের বেশি বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ হেক্টর পাকা ধানের জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।সরেজমিনে হাওড়া গিয়ে দেখা যায় কষ্টে ফলানো সোনালী ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ফসল বাঁচাতে প্রতিদিনই তারা বাড়তি খরচ গুনে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে ছুটছেন। তবে পানি বাড়া অব্যাহত থাকায়, কোথাও বুক পানি আবার কোথাও কোমর পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। আর তলিয়ে যাওয়া যেসব জমির ধান কাটা হচ্ছে, সেসব ধান রোদের অভাবে শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. রজব আলি, আবুল খায়ের, আমির আলি জানান, ধার দেনা ও সুদের উপরে টাকা এনে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। কিন্তু ঢলের কারণে সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। একদিকে হাওড়ে পানি বাড়ছে। অন্যদিকে দিগন্তে কালবৈশাখির হানা। সব মিলিয়ে ভালো নেই হাওড়ের কৃষকেরা। আরও পড়ুন: হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, নাসিরনগরের হাওড়ে চলতি মৌসুমে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে আগাম পানি আসার আগেই ৭০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। পানি বাড়ায় পাওয়ায় বর্তমানে অন্তত ৩০০ হেক্টর ধানি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচ থেকে কাটা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত ৮ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি ভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান আজ সরেজমিনে হাওড়াঞ্চল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাওড়ের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানের জমি দেখেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান এ ব্যাপারে কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। আরও পড়ুন: হাওড়াঞ্চলে পানির নিচে কষ্টের ফসল, কাটা ধান শুকানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় কৃষক সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
Go to News Site