Somoy TV
সরকারি চাকরি করে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক ভূমি অফিসের কর্মকর্তা। লাখ টাকা চাঁদা ছাড়া করেন না জমি খারিজ। এমনই অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল নেওয়াজের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রচার করতে গেলে বাধার শিকার হন সময় টিভির রিপোর্টার। তবে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।জমি খারিজ বাণিজ্যে ভূমি অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করার অভিযোগ কুমিল্লার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল নেওয়াজের বিরুদ্ধে। সেবার নামে হয়রানি আর সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য।কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী মৌজার ১০৭২ দাগে পৈতৃক সূত্রে ৩৮ শতকের মালিক জাহিদ হাসান ও খালেদ হাসানসহ চার ভাই-বোন। এখন ৩৮ শতক জায়গা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৪৪.৫ শতকে। কিন্তু ভাবে? গোলকধাঁধায় পড়ে সময়ের অসঙ্গতি টিম।জাহিদ হাসানসহ চার ভাই-বোন থেকে ৩৮ শতক জায়গার মধ্য গোলাম মোস্তফার কাছে বিক্রি করা হয় ২৯ শতক, তিনি নাম জারি করেন ৩০/১০/২০২৫ সালে, জসীমউদ্দীনের কাছে বিক্রয় করা হয় ৬.৫০ শতক তিনি নাম জারি করেন ০৬/১২/২০২৫ সালে, ইউসুফের কাছে বিক্রয় হয় ২.৫ শতক। সব মিলিয়ে জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ শতক। কিন্তু জসীমউদ্দীন যখন তার স্ত্রীকে জমি দলিল করে দিয়ে তার স্ত্রীর নামে নাম জারি করতে গেলে বাধে বিপত্তি। ২.৫ শতক জমির মালিক ইউসুফ তার নামে নাম জারি করেন ৯ শতক জমির। সব মিলিয়ে ৩৮ শতক জমি দাঁড়ায় ৪৪.৫ জমিতে। ভূমি সহকারী সাইফুল পাঁচ লাখ টাকার বিনিময় এই কাজটি করে দেয় ইউসুফকে, অভিযোগ ভোক্তভুগী জসিম উদ্দিনের।এলাকাবাসীর অভিযোগ, শতাংশ প্রতি মোটা অংকের টাকা ছাড়া কাজ হয় না দুর্গাপুর ভূমি অফিসে, ভোক্তভুগী ছাদেকুর রহমানের অভিযোগ।পরে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুলের সঙ্গে দেখা করলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। উপরন্তু, বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে সংবাদটি প্রচার বন্ধের চেষ্টা করেন।আরও পড়ুন: দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিচার শুরুঅনুসন্ধানের এ পর্যায়ে সময়ের অসংগতির হাতে আসে, সদরের বিষ্ণুপুর মৌলভীপাড়ায় সাইফুলের ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের জায়গাসহ ২০টি ফ্ল্যাটের তথ্য অভিযোগ এলাকাবাসীর। আরও খুঁজতে বেরিয়ে আসে, সদরের কাপ্তান বাজারের শতকোটি টাকা মূল্যের প্লটের তথ্য।এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে আরও জানতে পারি, আড়াই কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ জায়গা বিক্রি করেন সাইফুল। এর পাশেই রয়েছে, তার ছয় কাঠার আরও একটি প্লট। তাদের অভিযোগ, নামে-বেনামে আরও অসংখ্য সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সাইফুল।এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবিএম মশিউজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি তিনিও।পরামর্শ দেন, সহকারী ভূমি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার। এরপর সময়ের অসঙ্গতি টিম যায় সেখানে।সহকারী ভূমি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনিও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা দেখান। তিনি জানান, এ বিষয়ে কথা বলবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।আরও পড়ুন: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর বা বিভাগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রীআবারও সময়ের অসঙ্গতি টিম ফিরে যায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মশিউজ্জামানের কাছে।তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তাহলে প্রশ্ন উঠে, সরকারি চাকরি করে মাত্র ১৪ বছরে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হওয়ায় সাইফুলের অনিয়মের কী শাস্তি হতে পারে? এ বিষয়ে সময় সংবাদ কথা বলেছে একজন আইন বিশ্লেষকের সঙ্গে।সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে কেউ লাভজনক ব্যবসা করতে পারবে না। সরকারি খাস অথবা কোনো দলিল জালিয়াতি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।’
Go to News Site