Somoy TV
ফরিদপুরে পূর্ববিরোধের জেরে সালিশে মীমাংসা শেষে কোলাকোলির সময় রাজিব মৃধা (১৭) নামে এক কিশোরের অণ্ডকোষ চেপে ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোর বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।শনিবার (২ মে) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর কালিতলা এলাকায় স্থানীয় নুরুদ্দিন শেখের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য ও জমিজমা নিয়ে হাটগোবিন্দপুর এলাকার আজাদ মৃধার সঙ্গে প্রতিবেশী বিল্লাল মৃধা ও আনোয়ার মৃধার পূর্বশত্রুতা রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বিরোধ মেটাতে শনিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া, ইউপি সদস্য আজিজুর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হওয়ার পর কোলাকোলির সময় হঠাৎ তারা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের এক ব্যক্তি আজাদ মৃধার ছেলে কিশোর রাজিবের অণ্ডকোষ চেপে ধরেন। এতে ওই কিশোর বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আরও পড়ুন: ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুকে হত্যা, গ্রেফতার ৩ আহত কিশোরের বাবা আজাদ মৃধা অভিযোগ করে বলেন, ‘তাদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ জন্য তারা পরিকল্পনা করে আমাদের ওপর একাধিকবার হামলা করেছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তারা আমাদের গ্রামে থাকতে দেবে না বলেও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। সালিশে মীমাংসার সময় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার জন্য অণ্ডকোষ চেপে ধরে। এখনও আমার ছেলে সুস্থ হয়নি, ওর জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার ছেলের সাথে যা হয়েছে আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছেন প্রতিপক্ষ বিল্লাল মৃধা। তিনি বলেন, ‘ছেলেটির সাথে যা হয়েছে তা অবশ্যই অন্যায় হয়েছে। সালিশে সবকিছু নিয়ে মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে আমার এক আত্মীয় তর্কবিতর্কে জড়িয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ জন্য আমারও খারাপ লেগেছে, ছেলেটির খোঁজখবরও নিচ্ছি।’ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া বলেন, ‘দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে সালিশ হয় এবং মীমাংসাও হয়ে যায়। এরপর কোলাকুলি করার সময় এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে, যা সত্যিই দুঃখজনক।’ কিশোরের পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় রোববার (৩ মে) দুপুরে কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন কিশোরের বাবা আজাদ মৃধা। তবে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
Go to News Site