Jagonews24
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির এবং আহসান উল্লাহ নয়নসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। পদবঞ্চিত অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এরমধ্যে ছাত্রদল কর্মী আহসান উল্লাহ নয়ন ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। রোববার (৩ মে) ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করছেন, সেখানে অনেকেই করছেন মন্তব্য। এর আগে শনিবার রাতে কমিটি ঘোষণার পর ফেসবুক লাইভে ছাত্রদল কর্মী নয়ন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আহসান উল্লাহ নয়ন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান নয়ন। ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ‘আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এতদিন আন্দোলন সংগ্রাম হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সাথে লক্ষ লক্ষ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কী চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।’ আরও পড়ুনশপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি ছাত্রদলের একযোগে ২৯ কমিটি ঘোষণা একই সময়ে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির তার ফেসবুক পোস্টে কমিটি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো সমন্বয় ছাড়াই একতরফাভাবে কমিটি গঠন করেছেন। সুপার ফাইভের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের নিয়মবিরোধী।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান উল্লাহ নয়ন জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। আমরা দুজন টিকেছিলাম। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশনে এলাকায় আমার ছাত্রদলের পোস্টার দেখানো হলে ১৩ দিনের মাথায় আমাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়। ছাত্রদল করার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবুও ছাত্রদল থেকে সরে যাইনি। এরপরও আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি।’ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুকন উজ জামান রুকন বলেন, ‘আহসান উল্লাহ নয়ন ছাত্রদলের একজন ত্যাগী কর্মী। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হতো।’ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, ‘যারা সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের প্রত্যেককে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আহসান উল্লাহ নয়ন গত এক বছরে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে থাকেননি এবং ব্যক্তিগতভাবেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। ফলে আমরা ধরে নিয়েছিলাম তিনি হয়তো ছাত্রদলের রাজনীতি আর করছেন না। ফলে তাকে অবমূল্যায়িত করা হয়েছে। ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততা নিয়ে ঢালাওভাবে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সবাইকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি।’ এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, জেল-জুলুম সহ্য করেছে, তাদের কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’কামরুজ্জামান মিন্টু/কেএসআর
Go to News Site