Collector
যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া বৃষ্টির মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার | Collector
যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া বৃষ্টির মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার
Somoy TV

যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া বৃষ্টির মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মাদারীপুরের তরুণী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। মেয়ের এমন অকাল মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার। গ্রামের বাড়িতে এখন কেবল তার লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা, সময় যেন কিছুতেই কাটছে না তাদের।রোববার (৩ মে) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের এমন আহাজারি দেখা যায়। জানা যায়, ৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমান বৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাদে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখানে লিমনের সাথে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নিখোঁজের ৮ দিন পর শুক্রবার লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ। একদিন পর শনিবার ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষার পর বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন নিহত বৃষ্টির ভাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান প্রান্ত। পরে ৩০ এপ্রিল বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: মাছ ধরতে গিয়ে যেভাবে বৃষ্টির মরদেহ খুঁজে পেলেন জেলে বৃষ্টির এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি সরকারিভাবে সহযোগিতা কামনা করেছে নিহতের পরিবার। নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল হোসেন আকন বলেন, ‘আমার ভাতিজির এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কঠোর বিচার চাই।’ বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, ‘আমার বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি দ্রুত যাতে লাশ দেশে ফেরত আসে, সে ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছি।’ মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আল নোমান বলেন, ‘আমেরিকায় খুন হওয়া শিক্ষার্থীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস কাজ করছে। এছাড়া নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জেলা প্রশাসন।’ প্রসঙ্গত, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের জহির উদ্দিন আকন্দের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বৃষ্টির বাবা একটি এনজিওতে চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর পল্লবীতে বসবাস করেন।

Go to News Site