Collector
আরও এক লাখ টন ক্রুড আনতে আমিরাতের পথে ‌‘এমটি ফসিল’ | Collector
আরও এক লাখ টন ক্রুড আনতে আমিরাতের পথে ‌‘এমটি ফসিল’
Jagonews24

আরও এক লাখ টন ক্রুড আনতে আমিরাতের পথে ‌‘এমটি ফসিল’

ক্রুডের অভাবে তিন সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ রয়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)। তবে আশার কথা ইআরএলে পরিশোধনের জন্য আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসছে। চালানটি নিয়ে আসবে ‘এমটি ফসিল’ নামের ট্যাংকার জাহাজ। ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে জাহাজটিতে লোড করা হবে এসব ক্রুড। এরই মধ্যে আমিরাতের পথে রওনা দিয়েছে জাহাজটি। রোববার (৩ মে) রাতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ রওনা হয়। আগামী ৬ মে ক্রুডবাহী জাহাজটি দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ মে আবারও উৎপাদনে ফিরবে ইআরএল। পাশাপাশি চলতি মাসের শেষে ইয়ানবু থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে আরেক জাহাজ বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিএসসি ও ইস্টার্ন রিফাইনারি। ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড নিয়ে এমটি নিনেমিয়া গত ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে ভারত মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ এপ্রিল থেকেই জাহাজটি থেকে লাইটারিং শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ‘নিনেমিয়ায় আসা ক্রুড দিয়ে ইআরএল চালু হবে। এসব ক্রুড প্রসেসিংয়ে থাকার মধ্যেই ১০ এপ্রিল আরব আমিরাত থেকে এক লাখ টন মারবার ক্রুড লোড নিতে এমটি ফসিল নামের ট্যাংকার জাহাজটি ফুজাইরা বন্দরের পথে রয়েছে। পাশাপাশি চলতি মাসে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ টনের আরেকটি পার্সেল আসবে। ওই পার্সেলের শিডিউল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ আরও পড়ুনএক মাসে শুধু ডিজেলে বিপিসির ‘গচ্চা’ ১০১ কোটি টাকা ৭ মে উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি মে মাসে জ্বালানি তেলে থাকছে স্বস্তি  এমটি ফসিল জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী, এটির দৈর্ঘ্য ২৪৯ মিটার, প্রস্থ ৪৪ মিটার এবং ড্রাফট ১৪ দশমিক ৯ মিটার। জাহাজটির ডেডওয়েট এক লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টন। জাহাজটি ২০২৪ সালে নতুন নাম ‘ফসিল’ ধারণ করে। এর আগে জাহাজটির নাম ছিলো ‘ফস পিকাসো’। জাহাজটি তৈরি হয় ২০০৯ সালে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ইআরএল। এতে পরিশোধনে ব্যবহৃত শতভাগ ক্রুড অয়েল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে এসব ক্রুড আমদানি করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আমদানি করা ক্রুডের শতভাগ পরিবহন করে সরকারি পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিএসসি। এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয় বিএসসি। ‘এমটি নিনেমিয়া’ আগামী ৬ মে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি জাহাজটিকে আরও ১২ ঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে। পথে কোনো জটিলতা না থাকলে আশা করছি আগামী ৭ মে আমরা রিফাইনারি চালু করতে পারবো।— ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশরী শরীফ হাসনাত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ ক্রুড পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এরমধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজ। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মিলেনি। পাশাপাশি গত ২২ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড আনার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরবর্তীতে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ শিডিউল নির্ধারণ করা হয়। তবে যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের ট্যাংকার জাহাজটির যাত্রা বাতিল হয়। ফলে ক্রুড অয়েল সংকটে গত ১২ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সিডিইউনির্ভর অন্য প্ল্যান্টগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ মে ইআরএল আবারও উৎপাদনে ফিরবে বলে জানিয়েছে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশরী শরীফ হাসনাত। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এমটি নিনেমিয়া’ আগামী ৬ মে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি জাহাজটিকে আরও ১২ ঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে। পথে কোনো জটিলতা না থাকলে আশা করছি আগামী ৭ মে আমরা রিফাইনারি চালু করতে পারবো।’ শরীফ হাসনাত আরও বলেন, ‘আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ টন মারবান ক্রুড আনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এরই মধ্যে চার্টার প্রতিষ্ঠান বিএসসি ফুজাইরা বন্দরে একটি ট্যাংকার পাঠিয়েছে। আরব আমিরাতের এডনক (আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি) থেকে ক্রুডগুলো আসছে।’ আরও পড়ুনলোডশেডিং-ডিজেল সংকটে কপাল পুড়ছে কৃষকের জ্বালানি সংকটে পথ দেখাচ্ছে চীন, তিব্বতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপ্লব জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত  পার্সেলটি আসার ক্ষেত্রে হরমুজ সংকটের প্রভাব পড়বে না বলেও জানান তিনি। শরীফ হাসনাত বলেন, ‘ফুজাইরা থেকে লোড হলে আর হরমুজ হয়ে আসতে হবে না। ফুজাইরা থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসা যাবে।’ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে। দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর বিপরীতে ইসরায়েলসহ আশপাশের আরব দেশগুলোর বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নিষেধাজ্ঞা ও ঝুঁকি এড়াতে ফুজাইরা বন্দরকে নিরাপদ বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমিরাতের হাবসান তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনে ফুজাইরা বন্দরে ক্রুড অয়েল আসে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভৌগলিকভাবে ফুজাইরা বন্দরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে, ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত। ফুজাইরা বন্দরটি হরমুজ প্রণালির ৭০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে। ফুজাইরা থেকে পূর্ব দিকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে সরাসরি ওমান উপসাগর হয়ে আরব সাগরে প্রবেশ করতে পারে জাহাজ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নিষেধাজ্ঞা ও ঝুঁকি এড়াতে ফুজাইরা বন্দরকে নিরাপদ বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমিরাতের হাবসান তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনে ফুজাইরা বন্দরে ক্রুড অয়েল আসে। অন্যদিকে বর্তমানে সৌদি আরবের রেড সি (লোহিত সাগর) এলাকায় অবস্থিত ইয়ানবু বন্দরও রাস তানুরা বন্দরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল। এমডিআইএইচ/কেএসআর

Go to News Site