Somoy TV
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মমভাবে খুন হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল ও বৃষ্টির পরিবারের সহায়তায় প্রায় দুই লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন তাদের সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরিয়ান জানিয়েছেন, সংগৃহীত এই অর্থ দুই পরিবারের মধ্যে সমানভাবে দেয়া হবে। এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারছেন না প্রবাসীরা।স্মৃতির পাতায় যেন চিরস্থায়ী হয়ে রয়ে গেছেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। ভাইয়ের সঙ্গে আর কোনোদিন গান গাওয়া হবে না তার। যে জীবন একসময় সংগীতের মূর্ছনায় ভরপুর ছিল, ঘাতকের নির্মম ছুরির আঘাতে সেই আনন্দময় জীবন থমকে গেছে। থেমে গেছে তার আগামীর পথচলাও। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র আট মাস আগে সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান বৃষ্টি। একই ঘটনায় প্রাণ হারানো আরেক বাংলাদেশি জামিল আহমেদ লিমনও ছিলেন তার মতোই মেধাবী। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই নয়, সাংস্কৃতিক দক্ষতার জন্য স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও তারা ছিলেন বেশ পরিচিত। ফ্লোরিডার টাম্পার প্রবাসী বাংলাদেশি ইসরাত তাজরিন লুসি বলেন, ফ্লোরিডার বাঙালি কমিউনিটির সবাই খুবই শোকাহত। লিমন ও বৃষ্টি নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন, তারা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যার শিকার: দেশের পথে লিমনের মরদেহ বৃষ্টি ও জামিলের সহপাঠী ও বন্ধুরা জানান, বাংলাদেশে থাকা দুই পরিবারের সহায়তায় গোফান্ডমিতে খোলা অ্যাকাউন্টে এরই মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জমা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই পরিবারের প্রত্যেককে অন্তত ১ লাখ ডলার করে দেয়া সম্ভব হবে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. আরিয়ান বলেন, আমাদের ফান্ড রেইজিং কার্যক্রম এখনও চালু আছে। যারা আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চান, তাদের জন্য সুযোগ খোলা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এদিকে, স্থানীয়ভাবে ফিউনারেল সম্পন্ন করে বৃষ্টির জানাজা ও মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া তদারকি করছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস, ফ্লোরিডার মায়ামি কনস্যুলেট এবং মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা)। আগামী বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সময় জুমার নামাজের পর ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ৭ মে তার মরদেহ ঢাকায় পাঠানো হবে। তার সঙ্গে পাঠানো হবে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও, যা পরিবারের কাছে তার স্মৃতি হয়ে থাকবে। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন তারা। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পা বে এলাকায় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন হিশাম আবুঘরবেহ নামে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিককে সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন এলাকায় আরও একটি অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শুক্রবার স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লোরিডায় উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে।
Go to News Site