Collector
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তৈরি পোশাক খাত, জ্বালানি সংকটের নিরসন চান ব্যবসায়ীরা | Collector
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তৈরি পোশাক খাত, জ্বালানি সংকটের নিরসন চান ব্যবসায়ীরা
Somoy TV

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তৈরি পোশাক খাত, জ্বালানি সংকটের নিরসন চান ব্যবসায়ীরা

টানা ৮ মাস পর এপ্রিলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাত। রেকর্ড ৩১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি নিয়ে গত মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার। উদ্যোক্তারা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার সুফল মিলতে শুরু করেছে। পাশাপাশি স্থগিত থাকা ক্রয়াদেশও আবার কার্যকর করছেন ক্রেতারা। তবে শিল্পে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করার তাগিদও দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।মার্কিন শুল্ক যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর প্রভাবে গত বছরের আগস্ট থেকে একের পর এক মাসে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় কমতে থাকে। তবে অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ মাসে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রফতানি আয় এসেছে। বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিক চৌধুরী বলেন, এই অর্থবছরে খুব বেশি পজিটিভ প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে না। কারণ হাতে আছে মাত্র মে ও জুন মাস। এই দুই মাসে খুব বড় গ্রোথ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কিছুটা পজিটিভ ধারায় থাকার আশা করা হচ্ছে। আর এই ধারা বজায় রাখতে সরকারের লজিস্টিক সাপোর্ট, বিশেষ করে বর্তমানে যে সহায়তা দেয়া হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যেও বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে স্প্রিং ও সামার সিজনের পোশাক যেমন শার্ট, টি-শার্ট, লং প্যান্ট, লাইট জ্যাকেট ও জগিং স্যু তৈরিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। দামে কিছুটা কম হলেও বেশি অর্ডারের কারণে রফতানি আয় বাড়ছে। আরও পড়ুন: অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রফতানি আয় কমেছে ২.০২ শতাংশ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, চলমান প্রবৃদ্ধির ধারা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। স্প্রিং সিজন সাধারণত বড় বাজার, তবে গতবার সেই পরিমাণ কেনাকাটা হয়নি। এবার অর্ডার অনেক বেড়েছে। ট্যারিফ পরিস্থিতিও কিছুটা সহনীয় হওয়ায় বায়াররা আবার আগের অবস্থানে ফিরছে। উদ্যোক্তারা আরও বলছেন, নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনছে। স্থগিত থাকা অনেক অর্ডারও আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। বিজিএমইএর পরিচালক মো. এনামুল আজিজ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগের অনিশ্চয়তায় বায়াররা অপেক্ষার অবস্থানে ছিল। সে কারণে অর্ডার কমে গিয়েছিল। তবে এখন তারা আবার ফিরে আসছে এবং নতুন অর্ডার দিচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আরও ভালো প্রবৃদ্ধির আশা করা যাচ্ছে। এদিকে গত দুই মাস ধরে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি পোশাক খাতে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে কাপড় নষ্ট হচ্ছে, প্রসেস লসও বেড়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে ৩১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।

Go to News Site