Somoy TV
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচন হচ্ছে। লিমনের রুমমেট অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাজিয়েছেন হত্যার ছক। আদালতে জমা দেয়া প্রসিকিউটরের নথি ও তদন্ত সূত্রে উঠে এসেছে হত্যা পরিকল্পনার ভয়াবহ এক টাইমলাইন। ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম টাম্পা বে ২৮ এবং মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিক দিক।গিটার বাজিয়ে ভালো গান গাইতেন কেমিক্যাল প্রকৌশল বিদ্যার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। আর শান্ত গড়নের জামিল আহমেদ লিমন ভূগোল- পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি শেষে হতে চেয়েছিলেন গবেষক। ২৭ বছর বয়সি দুজনের ছিলো দারুণ বন্ধুত্ব। সম্পর্ক আগামী বছর গড়াতে যাচ্ছিল বিয়েতে। কিন্তু কে জানতো রুমমেট হিশাম আবুঘারেহের হাতে খুন হয়ে মৃত্যু হবে তাদের সব স্বপ্নের। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকার প্রায় এক সপ্তাহ পর জানা যায়, দুইজনই প্রাণ হারিয়েছেন। লিমনের লাশ উদ্ধারের দিনটি ছিল স্থানীয় পুলিশের জন্য অত্যন্ত নাটকীয়। গত ২৪ এপ্রিল লিমনের দেহের অবশিষ্টাংশ ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পরেই পুলিশ হিশামের পরিবারের বাড়ি থেকে পারিবারিক সহিংসতার একটি ফোন পায়। পুলিশ দ্রুত সেখানে উপস্থিত হলে হিশাম ঘরের ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট টিমকে তলব করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ উত্তেজনার পর অবশেষে সোয়াট টিমের চাপে হিশাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। লিমনের মৃত্যুর ঘটনায় হিশামকে একাধিক অভিযোগে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর সংবাদ না দেয়া, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, নিজেকে মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত করা। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সহায়তায় প্রায় ২ লাখ ডলার সংগ্রহ আদালতে জমা দেয়া প্রসিকিউটরের নথি ও তদন্তে উঠে এসেছে হত্যার পরিকল্পনার ভয়াবহ টাইমলাইন। গত ৭ ও ১১ এপ্রিল সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ অ্যামাজন থেকে ডাক্ট টেপ, আবর্জনার ব্যাগ, লাইটার ফুয়েল ও ফায়ার স্টার্টার কেনেন। গত ১৩ এপ্রিল চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কালো ব্যাগে লাশ ফেললে কী হয়? চ্যাটবট উত্তর দেয়, এটা বিপজ্জনক শোনাচ্ছে। জবাবে হিশাম লেখেন, তারা কীভাবে জানতে পারবে? ১৬ এপ্রিল শেষবার দেখা যায় বৃষ্টি ও লিমনের। মুঠোফোনের অবস্থান অনুযায়ী সেদিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে ৩২ মাইল দূরে, ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় গিয়েছিলেন। আইনজীবীরা বলেছেন, লিমনের মুঠোফোনের অবস্থান ক্লিয়ারওয়াটারে দেখানোর ১০ মিনিটের মধ্যে ওই এলাকায় যেতে দেখা যায় আবুঘরবেহের সাদা রঙের হুন্দাই জেনেসিস জি-৮০ মডেলের গাড়িটিকে। ১৭ এপ্রিল হিশাম আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চেয়েছিলেন হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়িতে তল্লাশি করা হয় কি না? একই দিন রাত ১টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে দুইবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে গিয়েছিলেন আবুঘরবেহ। এরপর ২২ এপ্রিল হিশাম আবুঘরবেহের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে তল্লাশি চালিয়ে কালো রঙের একটি আবর্জনার ব্যাগ খুঁজে পান গোয়েন্দারা। আবুঘরবেহের ফোনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল ওই জায়গাতে থেমেছিলেন তিনি। সেতুতে পাওয়া ব্যাগে মেলে লিমনের দেহাবশেষ। তবে হদিস ছিল না আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুদিন পর ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছ শিকারি একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজে পোশাকের দেখে ৩০ এপ্রিল হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন খণ্ডিত মরদেহটি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির।
Go to News Site