Collector
হরমুজে আটকা জাহাজগুলোকে ‘পথ দেখাবে’ যুক্তরাষ্ট্র | Collector
হরমুজে আটকা জাহাজগুলোকে ‘পথ দেখাবে’ যুক্তরাষ্ট্র
Jagonews24

হরমুজে আটকা জাহাজগুলোকে ‘পথ দেখাবে’ যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি পার করে দিতে ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৪ মে) সকাল থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ হবে ‘যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পক্ষ থেকে, তবে বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে’ একটি মানবিক উদ্যোগ। তিনি বলেন, ‘আমি আমার প্রতিনিধিদের জানিয়ে দিয়েছি, আমরা তাদের জাহাজ ও নাবিকদের প্রণালি থেকে নিরাপদে বের করে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। তারা সবাই বলেছেন, এলাকাটি নৌচলাচল এবং অন্যান্য সবকিছুর জন্য নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরবেন না।’ আরও পড়ুন>>ইরান কেন বাংলাদেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে নাহরমুজের নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ দেওয়া মানচিত্র শেয়ার করলেন ট্রাম্পহরমুজেই ডুববে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি? তবে কোনো পক্ষ যদি এই মানবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যেভাবে কাজ করবে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ৮৫০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এই জাহাজগুলো কীভাবে মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় আপাতত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দিয়ে পাহারার (এসকর্ট) কোনো ব্যবস্থা নেই। মূলত জাহাজ চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ট্রাফিক পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর সচল করতে ১ ০০র বেশি যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন ও ১৫ হাজার সেনাসদস্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে সহজভাবে নেয়নি তেহরান। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করে ইরান। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত ১৩ এপ্রিল ট্রাম্পও ইরানি বন্দরে জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ দেন। এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে তার প্রতিনিধিদের ‘খুব ইতিবাচক’ আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। যদিও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি; পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে। গত রোববার ইরানের পক্ষ থেকে একটি ১৪ দফার শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছিল, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একটি ফিরতি বার্তা পেয়েছে এবং সেটি পর্যালোচনা করছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/

Go to News Site