Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় সোমবার (৪ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের চিন্তা - দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামোর সুপারিশ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর (জুলাই-জুন) থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বাড়তি অর্থ দিয়ে শুধু নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করা হতে পারে। সূত্র জানায়, পরের দুই অর্থবছরে বাকি অর্ধেক মূল বেতন এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, পুরো বেতন কাঠামো দুই বছরে বাস্তবায়নের একটি বিকল্প চিন্তাভাবনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংকেত পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে।ব্যক্তিশ্রেণির করের বোঝা বাড়বে - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে তাদের কর দিতে হবে। আয় না বাড়লেও করের হার ও আয়ের স্ল্যাবের মারপ্যাঁচে সব করদাতাকে বাড়তি কর দিতে হবে। এছাড়া নিজ নামে স্থাবর সম্পত্তি থাকলে তার ওপর মৌজা রেটে দিতে হবে সম্পদ কর। এর বাইরে আয়কর আইনে আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে করের বোঝা বাড়বে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কী হারে কর দিতে হবে, তা নির্ধারণ করে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই হিসাবে করদাতাদের কর দিতে হবে আগামী ২ অর্থবছর। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করেছে। তবে আয়ের স্ল্যাব ও করহারে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। আর এ কারণে পালটে গেছে করদাতার করের হিসাব-নিকাশ।পৈশাচিক জিম্মি কাহিনি - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপহরণের পর প্রথমে বাহারছড়ার নির্জন জঙ্গলে জিম্মি করা হয়, এরপর তাদের তুলে দেওয়া হয় মাছধরা ট্রলারে। সেখানে আবার যোগ হয় মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রলোভনের টানে ছুটে আসা নারী-পুরুষ। এভাবে ২৬০ জনকে জড়ো করে শুরু হয় একটি ট্রলারের ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা। চার দিন পর মাঝসমুদ্রে প্রতারকচক্রের পৈশাচিক আচরণের এক পর্যায়ে জিম্মিদের সঙ্গে শুরু হয় হট্টগোল-মারামারি। টালমাটাল ট্রলারটি আন্দামান সাগরে ডুবে করুণ পরিণতি ঘটে জিম্মিচক্রের ২৬৪ নারী-পুরুষের। গভীর সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে একসময় নাটকীয়ভাবে উদ্ধার পায় ৯ জন। লোমহর্ষক এই অপহরণ-প্রলোভন ও জিম্মি-মুক্তিপণ কারবারের আদ্যোপান্ত অনুসন্ধানের পর জানা যায়-কক্সবাজারকেন্দ্রিক ভয়ংকর এক প্রতারকচক্র এখন সক্রিয় নিরীহ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নারী-পুরুষের জীবন নিয়ে জুয়াখেলায়।ওরা ভাসছিল লাশের মতো - দৈনিক কালের কণ্ঠের আরেকটি খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ৯ এপ্রিল দুপুর। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি জাহাজ এমটি মেঘনা প্রাইড মাত্রই আন্দামান সাগরে প্রবেশ করেছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। এর মধ্যেই জাহাজের ডেক থেকে এক ক্রু দেখতে পান সমুদ্রে একজন মানুষ ভাসছে। মুহূর্তেই জাহাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সতর্কতা। শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর এক উদ্ধার অভিযান। সাক্ষাৎকারে জাহাজটির ক্যাপ্টেন ওমর জাহান বলেন, ঘটনাটি তাঁদের কাছে শুধু পেশাগত দায়িত্বের বিষয় ছিল না, ছিল গভীর মানবিকতার প্রশ্নও। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন সোলাস (সেফটি অব লাইফ অ্যাট সি) অনুযায়ী সাগরে বিপদে পড়া যেকোনো মানুষের জীবন রক্ষা করা জাহাজের পেশাগত ও আইনি বাধ্যবাধকতা।চাঁদাবাজ পাকড়াও - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল সরকার। সরকারের নির্দেশনা পেয়ে দেশব্যাপী একটি তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন সেই তালিকা ধরেই চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। গত দু’দিনে শুধুমাত্র ঢাকা মহানগর পুলিশ ১৫২ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত ও তালিকার বাইরে আরও ৯৪ জন। ডিএমপি’র তরফে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনো চাঁদাবাজ-অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ওদিকে গতকাল কুমিল্লা সদর উপজেলা বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুমকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। অনুমোদন না থাকার পরও সবচেয়ে বেশি আমদানি ব্যয় মহিষের মাংসে - দৈনিক বণিকবার্তার প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লজিস্টিক খরচ কম, বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের তুলনায় দ্রুত সরবরাহ পাওয়া যায়-এমন সুবিধার কারণে ভারত থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানি বাড়ছে বাংলাদেশে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিবেশী দেশটি থেকে আনা হয়েছে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের কৃষিজাত পণ্য, যা কিনা মোট আমদানি ব্যয়ের ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। ভারত থেকে মূলত খাদ্যশস্য, মসলা ও বিভিন্ন নিত্যপণ্য নিয়মিত আমদানি করা হয়। তবে সর্বশেষ অর্থবছরে দেশটির সরকারি হিসাব বলছে, খরচের হিসাবে কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রফতানি হয়েছে মহিষের মাংস। এর পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে নন-বাসমতী চাল আমদানিতে। খাতসংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, দেশে গরু ও মহিষসহ অন্যান্য মাংস আমদানিতে অনুমতি দেয়া হয় না। কেবল পাঁচ তারকা হোটেলের জন্য সীমিত পরিসরে প্রিমিয়াম ফ্রোজেন মাংস আমদানির সুযোগ রয়েছে। তবে ওই মাংস আনতে এত ব্যয় হওয়ার কথা নয়।
Go to News Site