Collector
দুঃখীরামের শেষ জীবন কি তবে দুঃখেই কাটবে? | Collector
দুঃখীরামের শেষ জীবন কি তবে দুঃখেই কাটবে?
Jagonews24

দুঃখীরামের শেষ জীবন কি তবে দুঃখেই কাটবে?

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত দপ্তরী বাবু সুকুমার বিশ্বাস (দুঃখীরাম)। সারা জীবন তিনি কাটিয়েছেন বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজিয়ে আর শিক্ষার্থীদের সেবা করে। কিন্তু আজ নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে নিজেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দুঃখীরাম। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। পচন ধরায় চিকিৎসকরা এরই মধ্যে তার একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। পঙ্গুত্ব বরণ করে হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতর এই মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর মতো আপন বলতে এই পৃথিবীতে কেউ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুকুমার বিশ্বাস যাকে সবাই ‘দুঃখীরাম’ নামেই চেনেন। এই পৃথিবীতে তার আপন বলতে কেউ নেই। শৈশবে পিতৃহীন হওয়া সুকুমার বিশ্বাসের জীবন কাটে চরম অভাবে। মায়ের কোলে চড়ে এক সময় ঠাঁই মেলে জাটিগ্রাম এলাকার ঘোষ পরিবারে। প্রয়াত মোহিত মোহন ঘোষের স্নেহে ও প্রচেষ্টায় তিনি বিদ্যালয়ে দপ্তরীর কাজ পান। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার পর বার্ধক্য আর রোগ-শোক বাসা বাঁধে তার শরীরে। নিজের জমিজমা বা স্থায়ী কোনো সম্পদ নেই; এমনকি নিজের কোনো পরিবারও নেই। হাসপাতালের পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, সুকুমার বিশ্বাসের পায়ে রক্ত সঞ্চালনে চরম সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ডান পায়ের ধমনীগুলোতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পচন রোধে তার পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এছাড়া হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কম এবং রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নিঃস্ব এই দপ্তরীকে হুইল চেয়ারে করে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বড় অঙ্কের অর্থ। সুকুমার বিশ্বাসের ভাগনে সৈকত ঘোষ বলেন, আমার মামা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরও কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। এখন পা কাটার পর যে ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন, তা বহন করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিটান্ত কুমার ঘোষ বলেন, দুঃখীরাম দাদা আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশ। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষের এই অসহায়ত্ব আমাদের ব্যথিত করে। মানুষ তো মানুষেরই জন্য- এই বিশ্বাস থেকেই আমরা সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। এ ব্যাপারে জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে তিনি সেবা দিয়েছেন। আজ তার এই চরম মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর বিশেষ অনুরোধ জানাই। বিষয়টি নিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সরকারিভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

Go to News Site