Somoy TV
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যার পানিতে নিখোঁজ এক ব্যবসায়ীকে খুঁজতে রীতিমতো দুঃসাহসিক এক অভিযানের নজির স্থাপন করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার। কুমিরে ভরা নদীর মাঝখানে হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নেমে প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের একটি বিশাল কুমিরকে বেঁধে ফেলেন তিনি।সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কুমিরটির পেটের ভেতর নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। যদিও সরীসৃপটিকে আগেই মেরে ফেলা হয়েছিল। তবুও পুরো অভিযানে ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ক্যাপ্টেন পটগিটার বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিজ্ঞতা। পুলিশ জানায়, ড্রোন ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি চালানোর সময় একটি দ্বীপে প্রায় সাড়ে চার মিটার দীর্ঘ ও ৫০০ কেজি ওজনের একটি কুমির শনাক্ত করা হয়। প্রাণীটি অস্বাভাবিকভাবে স্থির থাকায় সন্দেহ হয়, এটি সম্প্রতি বড় কিছু শিকার করেছে। আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সীমান্তে কেন কুমির-সাপ ছাড়তে চায় ভারত? পরে কুমিরটিকে হত্যা করা হলেও সেটিকে উদ্ধার করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নদীতে অন্য কুমিরের উপস্থিতির কারণে যেকোনো সময় হামলার আশঙ্কা ছিল। তবে ঝুঁকি উপেক্ষা করে ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার চলন্ত হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নেমে কুমিরটিকে শক্তভাবে বেঁধে ফেলেন।পরে হেলিকপ্টারের সাহায্যে কুমিরসহ পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে নদী থেকে তুলে আনা হয়। পরবর্তীতে কুমিরটির পেট পরীক্ষা করে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেখানে মানুষের হাড়ের পাশাপাশি ছয় ধরনের ভিন্ন ভিন্ন জুতাও উদ্ধার করা হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে কুমিরটি আগে আরও একাধিক মানুষকে শিকার করেছে। আরও পড়ুন: পদ্মায় জেলের বড়শিতে উঠে আসা সেই কুমিরটি নেয়া হলো খুলনায় উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিখোঁজ ব্যবসায়ীর কিনা, তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অসাধারণ বীরত্ব দেখানোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান ক্যাপ্টেন জোহানের বিশেষ প্রশংসা করেছেন।
Go to News Site