Somoy TV
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে এখন তাকিয়ে আছে সবাই। কারণ সোমবার ভোট গণনা শুরু হয়েছে।এই নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর চেয়ারপার্সন ও তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার পদে টিকে থাকতে পারবেন, নাকি বিজেপি অবশেষে মমতার দুর্গ ভেদ করে প্রথমবারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির শাসনভার গ্রহণ করতে পারবে। স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়। শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে ব্যবধান বাড়তে থাকে। আরও পড়ুন:আসামে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি, কংগ্রেসের সঙ্গে ব্যবধান কত? সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ভোট গণনা শুরুর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ সময় ১১টা পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে ছিল ১৮০ আসনে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল ১০৭ আসনে।বাংলার নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নজর রাখার মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো। এসআইআর ছায়া পশ্চিমবঙ্গে দুই দফার নির্বাচনে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ, প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অধিকাংশ এক্সিট পোলই একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে।এবার ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর)-এর প্রেক্ষাপটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই সংশোধন প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েক মাস ধরে চলে এবং এর ফলে প্রায় ৯১ লক্ষ ‘ভুয়া’ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। এর মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়। শুরু থেকেই মমতা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি রেকর্ড সংখ্যক ভোটকে এসআইআর এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার বিরুদ্ধে একটি গণবিক্ষোভ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি তার দলের জন্য লাভজনক হবে।অন্যদিকে, বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে কথিত নথিবিহীন বাংলাদেশি অভিবাসীদের বাদ দেয়ার জন্য এসআইআর-কে স্বাগত জানিয়েছে। দলটি এই সর্বোচ্চ ভোটকে ‘ব্যাপক সরকার-বিরোধী মনোভাবের’ কারণে টিএমসি সরকারের বিরুদ্ধে একটি রায় হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে।টিএমসি-র কঠিন পরীক্ষাভোটগ্রহণের একদিন পর এক ভিডিও বার্তায় মমতা দাবি করেন যে, তার দল ২০০ আসনের গণ্ডি পার করবে এবং এমনকি ২৩০ আসনেও পৌঁছাতে পারে, যদিও সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, টিএমসি প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট শেয়ার নিয়ে ২১৫টি আসন লাভ করে, যেখানে বিজেপি ৩৮ শতাংশ-এর বেশি ভোট পেয়ে ৭৭টি আসন পায়। দক্ষিণবঙ্গের শক্ত ঘাঁটিতে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্সি বিভাগের মূল ১১১টি আসনে নিজেদের আসন ধরে রাখা টিএমসি-র জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এছাড়াও, রাজ্যজুড়ে দলটিকে তার মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। মমতার বাঁচা-মরার লড়াই এই মুখোমুখি লড়াইটিকে ‘মমতার জীবনের লড়াই’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি তার লড়াকু রাজনীতি এবং সংগ্রামী মনোভাবের জন্য পরিচিত। যদি তিনি চতুর্থবারের মতো বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেন, তবে জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ বিরোধী নেতাদের মধ্যে তার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। এবারও দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনে মমতা তার সহযোগী থেকে বিজেপির মুখ এবং বিরোধীদলীয় নেতা (এলওপি) শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিনেও এই আসনে নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছিল, কারণ তার আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মী এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তার দলের নেতা ও কর্মীদের হয়রানি এবং আটক করার অভিযোগ তুলেছিলেন।মমতা ২০১১ সাল থেকে ভবানীপুর আসন থেকে জিতে আসছেন। শুভেন্দুও তার নিজের এলাকা পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রায় ১,৯০০ ভোটে পরাজিত করেছিলেন।বিজেপির চ্যালেঞ্জ ২০২১ সালে বিজেপি ৭৭টি আসন লাভ করে—যা রাজ্যে তাদের সর্বকালের সেরা সাফল্য—এবং সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস উভয়কেই সরিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।এবার বিজেপি শুধু ১০০-র গণ্ডি পার করতেই নয়, বরং সেই কাঙ্ক্ষিত আসনটি নিশ্চিত করার জন্যও সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে যে, ১৫০টি আসন পেলে দলের অবস্থান আরও মজবুত হবে এবং এরপর টিএমসি ‘ভেঙে পড়বে’।বিজেপির এই প্রচার অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সাথে, দলের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। কংগ্রেস, বাম ২০২১ সালে জোটবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন বামেরা কেউই কোনো আসন পায়নি।এবার কংগ্রেস এককভাবে লড়ছে। দলটি মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর—এই তিনটি মুসলিম-অধ্যুষিত সীমান্ত জেলায় কিছু আসন পাওয়ার আশা করছে। আরও পড়ুন:পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করবে: শুভেন্দু অধিকারী সিপিআই(এম)-ও সেই রাজ্যে কিছুটা জমি পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে, যেখানে ২০১১ সালে মমতার হাতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তারা ৩৪ বছর শাসন করেছিল। দলটির নেতৃত্বাধীন বামেরা আবারও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেস
Go to News Site