Collector
কাওয়াদিঘি হাওরে কৃষকের আহাজারি, পানির নিচে অর্ধেকের বেশি বোরো ধান | Collector
কাওয়াদিঘি হাওরে কৃষকের আহাজারি, পানির নিচে অর্ধেকের বেশি বোরো ধান
Somoy TV

কাওয়াদিঘি হাওরে কৃষকের আহাজারি, পানির নিচে অর্ধেকের বেশি বোরো ধান

মৌলভীবাজারের মনু নদী সেচ প্রকল্পভুক্ত কাওয়াদিঘি হাওরে পানি নিষ্কাশন স্থবির হয়ে পড়ায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কাশেমপুর পাম্প হাউসের পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় এবং টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরে জলাবদ্ধতা এখন প্রকট। কৃষকদের দাবি, হাওরের অর্ধেকের বেশি বোরো ধান এখন পানির নিচে। দ্রুত পানি না সরালে সম্পূর্ণ ফসল বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে কাশেমপুর পাম্প হাউস এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে নতুন করে তলিয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। স্থানীয় কৃষক আনসার মিয়া জানান, গত দুদিনে তার নতুন করে আরও ৮ থেকে ১০ কিয়ার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ধান শুকানোর খলাও ডুবে যাবে। আমরা বড় বিপদে আছি, কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে না।'একই এলাকার কৃষক আব্দুল খালিকসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন, কাশেমপুর পাম্প হাউস ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। ফলে হাওড়ের ৫-৭টি গ্রামের কৃষকরা চরম দুর্গতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরির কারণে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তারা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, জেলায় এ বছর মোট ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যার মধ্যে কাওয়াদিঘি হাওরে চাষ হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টরের বেশি। সরকারি হিসাব মতে, অতিবৃষ্টি ও ঢলে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪৯ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, হাওরের ৮২ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কাটা শেষ।তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। কৃষকদের দাবি, এখনো অর্ধেকের বেশি ধান মাঠেই রয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ পানির নিচে।আরও পড়ুন: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষিদের ৭৫০০ টাকা করে সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রীপানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, কাশেমপুর পাম্প হাউসের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে পাম্প চালানো হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পাম্পের নিষ্কাশন ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় পানি দ্রুত কমছে না। তিনি স্বীকার করেন যে, নিষ্কাশন কার্যকারিতা কম হওয়ার কারণে হাওরে পানি বাড়ছে।হাওরপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, আজ প্রায় ১০ দিন ধরে তারা জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন। যদি পাম্পের সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা না যায়, তবে মনু নদী সেচ প্রকল্পের আওতাধীন ৮ হাজার হেক্টর জমির অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের চোখেমুখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তার ছাপ।

Go to News Site