Somoy TV
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নিজ জেলা নোয়াখালীতে তার বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা। জেলা, সদর উপজেলা ও পৌরসভা শাখা সহ বিভিন্ন ইউনিটের নবঘোষিত কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে নাছির উদ্দীন নাছিরকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত এই কমিটি বিলুপ্ত করা না হলে জেলাজুড়ে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা।সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক নোয়াখালী পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম অভিযোগ করে বলেন, 'নাসির উদ্দিন নাসির তার নিজের পকেট বাহিনী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দিয়ে এই কমিটি গঠন করেছেন। গত ১৭ বছর যাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়নি, যারা একদিনও জেল খাটেননি, তাদের এই কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। অথচ যারা রাজপথে লড়াই করেছেন, তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।'নাছির উদ্দীনের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়াসিম আরও বলেন, 'নাসির আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, তার বাবা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড মেম্বার। তিনি এখন আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে আমাদের প্রাণের দল ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে এই পকেট কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছি।'সমাবেশে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ছাত্রদলের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ঘটনা আর ঘটেনি। একজন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে সরাসরি উপজেলার নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যারা উপজেলা পর্যায়ে যোগ্য ছিলেন, তাদের জেলা কমিটিতে নামকাওয়াস্তে পদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ১৭ বছর এই মাইজদী শহরের রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। আজ ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মাথায় আমাদের সরিয়ে দিয়ে নিজের লোক সেট করা হচ্ছে।'আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধতিনি আরও বলেন করেন, 'আমরা এক নেতার এক পদ নীতিতে বিশ্বাস করে কখনো জেলা কমিটিতে ঢুকিনি। কিন্তু আজ আমাদের কর্মীদের আমাদের সমমর্যাদার পদ দিয়ে আমাদের অপমান করা হয়েছে।'বিক্ষুব্ধ নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এই অনিয়মের বিচার চান। অবিলম্বে বিতর্কিত কমিটিগুলো বাতিল করে ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়ন করা না হলে নোয়াখালীতে হরতালসহ যেকোনো কঠোর গণকর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবেন তারা।বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও জেলা কমিটির একাধিক নেতা একযোগে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সজীব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন রকি, নোয়াখালী কলেজের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত শুভ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিজভী, তারেক নূর, হৃদয়সহ বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
Go to News Site