Somoy TV
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাওয়া দর্শক-সমর্থকদের অভিযোগের অন্ত নেই। স্টেডিয়াম এবং বিসিবির টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়। এবার বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছেন টয়লেটে। বিসিবির ওয়াশরুমের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ঠিকমতো পারিশ্রমিক দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। বিসিবিতে থাকা মধ্যস্বত্বভোগীরা তাদের পারিশ্রমিকের একটা অংশ কেড়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই সাবেক অধিনায়ক।সম্প্রতি শেষ হওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন স্টেডিয়ামের গ্যালারি, ওয়াশরুম পর্যবেক্ষণ করেন তামিম। সে সময় ফিনল্যান্ড প্রবাসী এক নারী স্টেডিয়ামের টয়লেটের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তার কাছে অভিযোগ করেন বলে জানান তামিম।এরপর সোমবার (৪ মে) পরিচ্ছন্নতাকর্মী নারীদের বেতন বাড়ানোর ইস্যু নিয়ে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘কাল আমি বিসিবিতে গিয়েছিলাম। বিসিবিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে আমাদের যে ক্লিনিং সার্ভিস আছে, তাদের আমরা জনপ্রতি কত টাকা করে দিই। শুনে অবাকই হলাম যে ৬৫০ টাকা করে দিই। তো তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম যে ৬৫০ টাকা করে দিই তাহলে এরা ৩০০ টাকা কেন পাচ্ছে? এ ধরনের দুর্নীতির কথা আপনারা জানেন। কিন্তু আমার কাছে কষ্ট হয় যে এই নারীরা যারা ৩০০ টাকা ৪০০ টাকা প্রতিদিন উপার্জন করেন, তাদের থেকেও টাকা খেতে হবে। মানে তাদের থেকেও টাকা চুরি করতে হবে। এটা একেবারে জঘন্য।’ আরও পড়ুন: আকরামের চোখে নাহিদ রানা গতি ও বুদ্ধিমত্তার দারুণ সমন্বয়২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করে শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিপিএলসহ অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টেরও চাপ সামলে আসছে এই স্টেডিয়াম। ক্রিকেট বোর্ডের মূল অফিসও এখানেই। এতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়া সত্বেও নির্মাণের পর এখানকার টয়লেটের আর কখনোই সংস্কার কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তামিম।বিসিবির এই সভাপতি বলেন, ‘আপনারা হয়তো শুনে অবাকই হবেন যে স্টেডিয়াম যখন ২০০৭ সালে তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকে আর বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। এটা ঠিক না। তো আমি এ কারণে যাওয়ার সময় সেখানে দেখেছিলাম। বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা খালাাম্মা আমাকে আমাকে একটা কথা বলেছিলেন, যেটা হয়তোবা অনেকেই ভিডিওতে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘ভাইয়া আমরা প্রত্যেক দিন ৩০০ টাকা করে পাই। এই জিনিসটা যদি আপনি একটু দেখতেন।’’’ আরও পড়ুন: প্রধান কোচ হিসেবে পূর্ব-অভিজ্ঞতা নেই, বিগ ব্যাশে তিনিই এখন স্মিথদের কোচপরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক ঠিকঠাকভাবে বুঝিয়ে দেয়া না হলে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি তাদেরকে বিসিবিতে নিষিদ্ধ করারও হুমকি দিয়েছেন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম।তিনি বলেন, ‘আমি তাদের একটা বিল জমা দিতে বলেছি এই সিরিজে। আমি বলেছি যে আপনি ৩০ নারীকে ডাকবেন আমার সামনে তাদেরকে ৫০০ টাকা করে দেবেন। ১০০-১৫০ টাকা আপনার লাভ থাকতে পারে। কারণ, যদি কোনো কোম্পানি একটা কাজ নেয় তার অনেক কিছু কিনতে হয়, তার নিজস্ব কোম্পানি চালাতে হয়, তার একটু লাভ করবেই। সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি আপনি এই নারীদের দিয়েছেন, আমার সামনে আপনি ডেকে সবার সামনে দেবেন। তারপর থেকে যদি আপনারা চান, তাহলে চুক্তি গ্রহণ করতে পারি। তা না হলে চুক্তি তো বাতিল করবই। একইসঙ্গে ব্ল্যাকলিস্ট করে দেব যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন আপনি বিসিবিতে কাজ না করতে পারেন।’
Go to News Site