Collector
সারাদেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসি ক্যামেরা বসাতে হাইকোর্টের রুল | Collector
সারাদেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসি ক্যামেরা বসাতে হাইকোর্টের রুল
Jagonews24

সারাদেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসি ক্যামেরা বসাতে হাইকোর্টের রুল

দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে সারা দেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত সিসি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে নিবন্ধন অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে উচ্চ-গুণমানের (এইচডি) সিসি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনে অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া কেন বেআইনি ও আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর তদারকিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (৩ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সরোয়ার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। গত ২৬ এপ্রিল তিনি বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠান। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আসেন। সোমবার (৪ মে) আইনজীবী আল মামুন বলেন, সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের খবরে অনুপ্রাণিত হয়ে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‌সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে আমরা এ ক্ষেত্রে একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে পেয়েছি। তিনি নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে মনিটরগুলো বাইরে জনগণের দেখার জন্য দিয়েছেন। আমি নিজে সেখানে গিয়ে বিষয়টি দেখেছি।সেটি দেখার পর আমার মনে হয়েছে, সারা বাংলাদেশে যদি এটি করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহিতার একটি পরিষ্কার জায়গা তৈরি হবে। তবে রোববার সাভারের এই সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগে প্রত্যাহার করে নিবন্ধন দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুধু সিসি ক্যামেরা দিয়ে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী আল মামুন বলেন, ‘দুর্নীতি আসলে মানুষের অন্তরের বিষয়। এটিকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা যায় না। তবে আমরা এটি কমিয়ে আনতে পারি।’ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন এখানে একটি ‘আর্টিফিশিয়াল উইটনেস’ বা কৃত্রিম সাক্ষী হিসেবে কাজ করবে।এর একটি সাক্ষ্যগত মূল্য আছে। রেকর্ডগুলো সেখানে সংরক্ষিত থাকতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের জনগণের কাছে যে জবাবদিহিতা আছে, তা নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে সিসি ক্যামেরা একটি ছোট কিন্তু কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। রিট আবেদনে আইনি ভিত্তি হিসেবে বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলো দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বচ্ছতার অভাবে জর্জরিত। যথাযথ তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও মানসিক চাপে ফেলা হচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অফিসগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন— এমন উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়, এটি সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের আওতায় সমান সুযোগ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সেই সাব-রেজিস্ট্রারকেই প্রত্যাহার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ এর এক অফিস আদেশে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে নিবন্ধন দপ্তরে সংযুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ এবং বিধি ৩(ঘ) অনুযায়ী দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রত্যাহার করে নিবন্ধন অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে অবিলম্বে বর্তমান দায়িত্বভার হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ এদিকে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংবাদ প্রকাশের জোরে দেওয়ান ইমন নামে স্থানীয় এক সাংবাদিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে সাভারের ওই সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন বিরুদ্ধে। সেদিন দুপুর ২টার দিকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অদূরে গণপাঠাগারের বিপরীত পাশে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক দেওয়ান ইমন টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভির সাভার প্রতিনিধি। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, দুপুরের দিকে ওই সাংবাদিক তার অপর এক সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় ৩০-৩৫ জন লোকসহ ওই সাব-রেজিস্ট্রার তাদের দিকে আসেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে শারীরিক হেনস্তাও করা হয়। এফএইচ/এসএইচএস

Go to News Site