Collector
সিগন্যালে ফাঁকি দিচ্ছেন? রেকর্ড করছে এআই ক্যামেরা, অটোমেটিক নোটিশ চলে যাবে বাসায় | Collector
সিগন্যালে ফাঁকি দিচ্ছেন? রেকর্ড করছে এআই ক্যামেরা, অটোমেটিক নোটিশ চলে যাবে বাসায়
Somoy TV

সিগন্যালে ফাঁকি দিচ্ছেন? রেকর্ড করছে এআই ক্যামেরা, অটোমেটিক নোটিশ চলে যাবে বাসায়

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা, চারদিকে গাড়ির হর্ন আর যানজট। এর মাঝেই সিগন্যাল অমান্য করে হুট করে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা স্টপ লাইন পেরিয়ে গাড়ি দাঁড় করানো আমাদের চিরচেনা দৃশ্য। এতদিন হয়তো ট্রাফিক সার্জেন্টের চোখের আড়ালে গিয়ে অনেকে পার পেয়ে যেতেন, কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ থাকছে না। কারণ, রাজধানীর রাস্তায় এখন কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পন্ন ‘স্মার্ট’ সিসি ক্যামেরা।অদৃশ্য পাহারাদার যখন আপনার পিছু নেবেকল্পনা করুন, আপনি কারওয়ান বাজার বা শাহবাগের কোনো একটি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রাফিক পুলিশ ধারেকাছে নেই দেখে আপনি লাল বাতি অমান্য করে গাড়ি অথবা বাইকটা টান দিলেন। ভাবলেন কেউ দেখেনি। কিন্তু আপনার এই ভাবনাটাই হয়তো ভুল! কে জানে, ওপরের হাই-টেক ক্যামেরাটি আপনার গাড়ির নম্বর প্লেটটি স্ক্যান করে নিয়েছে কি না।ডিএমপির নতুন এই পদ্ধতিতে কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এআই বেসড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করছে ট্রাফিক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ। যার মধ্যে রয়েছে:সিগন্যাল অমান্য করা।জেব্রা ক্রসিং বা স্টপ লাইন অতিক্রম করা।রাস্তার উল্টো পথে গাড়ি চালানো।যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি।অবৈধ পার্কিং এবং বাম পাশের লেন ব্লক করে রাখা।সরাসরি ঠিকানায় যাবে ‘অটোমেটিক’ নোটিশডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন আর সার্জেন্টের সাথে রাস্তার মাঝে তর্ক করার দিন শেষ। ক্যামেরায় অপরাধ ধরা পড়লে সেই ভিডিও বা স্থিরচিত্র সরাসরি চলে যাবে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারে। সেখান থেকে গাড়ির মালিকের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটেড নোটিশ চলে যাবে রেজিস্ট্রি করা ডাকযোগে।আপনার ফোনে বা ঠিকানায় নোটিশ আসা মানেই হলো আইনগত বাধ্যবাধকতা। এরপর আপনাকে ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জরিমানা দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হবে। আরও পড়ুন: চীনের রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্বে ‘রোবট পুলিশ’অনেকে চিন্তা করতে পারেন যে, নোটিশ আসলেও জরিমানা দেয়া লাগবে না। তাদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিএপি। জানিয়েছে, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইন লঙ্ঘনকারী হাজিরা না দেন বা জরিমানা পরিশোধ না করেন, তবে বিষয়টি সরাসরি চলে যাবে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। সেখান থেকে ওই ব্যক্তির নামে সমন জারি হতে পারে, এমনকি জারি হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানাও!প্রতারক চক্র থেকে সাবধানডিএমপি একটি বিশেষ অনুরোধও করেছে। যেহেতু এই ব্যবস্থাটি ডিজিটাল, তাই কোনো অসাধু চক্র আপনাকে ফোন করে বা মেসেজ দিয়ে সরাসরি টাকা চাইতে পারে। আর তাই কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি।জরিমানা পরিশোধের কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন ডিএমপি করে না।ব্যক্তিগত তথ্য বা পিন নম্বর কারো সাথে শেয়ার করবেন না।এমন কোনো সন্দেহজনক বার্তা পেলে সাথে সাথে থানায় বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করুন।ঢাকা মহানগরীকে আধুনিক এবং যানজটমুক্ত করতে এই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন মাইলফলক তৈরি করতে পারে। এখন থেকে তাই সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ডানে-বামে সার্জেন্ট খোঁজার চেয়ে নিজের নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে ডিএমপি।

Go to News Site