Somoy TV
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি রফাদফা করতে স্থানীয় মাতুব্বররা ওই তরুণীর পরিবারকে জোরপূর্বক শালিস মীমাংসায় বসিয়ে ২০ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন।রোববার (০৩ মে) রাতে শালিস বৈঠকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় অভিযুক্ত দেলোয়ারকে। এ সময় ১০ হাজার টাকা দিয়ে দেয়া হয় এবং পরে ১০ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে শালিসদাররা জানান।অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন শালিসদাররা। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি জানা নেই।রিকশাচালক বাবার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী। মাঝে মধ্যেই প্রতিবেশী দেলোয়ার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতো। রাজি না হওয়ায় গত ২৫ এপ্রিল রাতে ওই কিশোরীর ঘরে ঢুকে দেলোয়ার। এরপর ওই কিশোরীকে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় কিশোরী চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মাতুব্বররা থানায় যেতে নিষেধ করেন এবং শালিস মীমাংসার কথা বলেন। থানায় না যেতে হুমকি ধামকিও দেয়া হয়। রোববার রাতে শালিস বৈঠকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় অভিযুক্ত দেলোয়ারকে। এ সময় স্ট্যাম্পে ওই কিশোরী ও পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষরও নেয়া হয়।আরও পড়ুন: ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ, ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষকওই কিশোরী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আমরা এ শালিস মানি না, আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। শালিসদাররা মোটা অংকের টাকা খেয়ে এ শালিস করেছে।ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, আমরা দরিদ্র মানুষ। বাবা রিকশা চালিয়ে যা রোজগার করে তা দিয়েই সংসার কোনো রকম চলে। প্রতিবেশী দেলোয়ার মাঝে মধ্যেই কুপ্রস্তাব দিতো। রাজি না হলে সে রাতে ঘরে ঢুকে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। আমি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে আমাকে উদ্ধার করেন। এরপর আমরা থানায় যেতে চাইলে মাতুব্বররা আমাদের যেতে দেননি, তারা শালিস করে দেবে বলে আমাদের আটকায়। হুমকি ধামকিও দেয়া হয়। পরে ভয়ে আমরা থানায় যাইনি।ওই কিশোরী আরও জানায়, রোববার রাতে শালিস হয়, সেখানে ২০ হাজার টাকা দেলোয়ারকে জরিমানা করা হয়। ১০ হাজার টাকা রাতে দেয়া হয় এবং আজকে সন্ধ্যায় ১০ হাজার টাকা দেয়ার কথা রয়েছে। আমার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেয়া হয়। আমি এই শালিসে যেতে চাইনি, আমাকে জোড় করে নেয়া হয়। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাই।এ দিকে কিশোরীর শ্লীলতাহানীর ঘটনাকে পুঁজি করে শালিসের কথা বলে স্থানীয় মাতুব্বররা অভিযুক্ত দেলোয়ারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।আরও পড়ুন: জমি নিয়ে বিরোধ: সিরাজদিখানে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনকে পিটিয়ে আহত, শ্লীলতাহানির অভিযোগভুক্তভোগী কিশোরীর দাদি জানান, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে। আমাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। এখানে আমাদের আত্মীয়-স্বজন না থাকার কারণে স্থানীয় লোকজন আমাদের হুমকি ধামকি দিতে থাকেন এবং বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। তাদের কথা না শুনলে আমাদের ঘর ছেড়ে এবং এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেয়। স্থানীয়দের ভয়ে আমরা মামলা করতে সাহস পাই নাই। অভিযুক্ত দেলোয়ারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে একপেশে শালিস করেছে মাতুব্বররা।শালিস বৈঠকে অংশ নেয়া গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি কাসেম মিয়া বলেন, ‘রাতে আমরা স্থানীয় লোকজন বসে সালিশ করে দেলোয়ারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে দিয়েছি। তখন কিন্তু এই মেয়েটির দাদি, বাবা, চাচা সবাই উপস্থিত ছিলেন। তখন দরবার মেনে নিয়ে এখন বলছে সালিশ মানি না। এগুলো তো ঠিক নয়।’অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা শুধুমাত্র শালিস করে দিয়েছি।’আরও পড়ুন: দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে গিয়ে গৃহবধূকে ‘শ্লীলতাহানির’ অভিযোগঅভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। ওই কিশোরীর সঙ্গে আমি কিছুই করিনি।’এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়ে ফোনের লাইনটি কেটে দেন তিনি।
Go to News Site