Jagonews24
গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার পর হামাসসহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর যৌথ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি ‘রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসতে পারে। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি সূত্র মিডল ইস্ট আই-কে জানায়, প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা জাতীয় কাঠামোর ভেতরে ফিলিস্তিনি জনগণের রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজার সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ৯০ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। এতে হামাসকে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চারের মতো ভারী অস্ত্র এবং টানেল নেটওয়ার্কের মানচিত্র হস্তান্তরের কথাও ছিল। সম্প্রতি কায়রো ও ইস্তাম্বুল-এ বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও বেড়েছে। মূল বিরোধের বিষয় হলো- গাজায় একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের আগে হামাসসহ অন্যান্য গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই জ্যেষ্ঠ সূত্র আরও জানায়, মধ্যস্থতাকারী ও আমেরিকানরা উভয়েই ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মার্কিন পক্ষ থেকে হুমকিমূলক বার্তা ফিলিস্তিনি আলোচক দলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বলছে, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতো রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানান, গাজায় সংগঠনের নেতা খালিল আল-হাইয়া-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কায়রোতে মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টর দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। উদ্দেশ্য ছিল গত অক্টোবর থেকে কার্যকর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের উপায় খুঁজে বের করা। ওই চুক্তিতে ছয়টি ধাপের কথা উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে মানবিক সহায়তা পুনরায় শুরু, নির্ধারিত সীমারেখায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং চুক্তি বাস্তবায়নে একটি আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্স গঠন। ফিলিস্তিনি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, শারম আল-শেখ চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলকে তার সব দায়বদ্ধতা পূর্ণ ও তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে আরও দাবি করা হয়, ইসরায়েল যেন অক্টোবরের চুক্তি লঙ্ঘন না করে এবং গাজার পূর্বাঞ্চলে সম্প্রসারণ থামায়। একই সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলে হামলা বন্ধ করে এবং প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেয়। প্রস্তাবে ১৯ এপ্রিল মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া রোডম্যাপকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সমর্থন জানিয়ে দ্রুত একটি চুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। এই রোডম্যাপে গাজায় পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রবেশ এবং গাজার শাসন একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করার কথাও বলা হয়েছে। কেএম
Go to News Site