Collector
ব্যাংকখাতে ঋণ কমেছে সরকারের | Collector
ব্যাংকখাতে ঋণ কমেছে সরকারের
Somoy TV

ব্যাংকখাতে ঋণ কমেছে সরকারের

এপ্রিল শেষে ব্যাংকখাত থেকে সরকারের ঋণ কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় এই ঋণপ্রবাহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেয়া মূল্যস্ফীতি বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কর আদায়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জুনের মধ্যে আরও ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণনির্ভর অর্থনীতিতে সরকারের জন্য নিরাপদ অর্থের উৎস হয়ে উঠেছে ব্যাংক খাত। গত তিন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা ঋণ রেখে যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তখন পুরো ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণ ছিল ৬৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা, যা বাজেট সহায়তার প্রায় ৭০ শতাংশ। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল এই ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকায় এবং ব্যাংক খাত থেকে মোট ঋণ কমে দাঁড়ায় প্রায় ৯২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। আরও পড়ুন: রিজার্ভ আরও বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণ কম থাকায় সরকারের ঋণ নিতে কোনো সংকট হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ দেয়ার মতো তারল্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়া অলস টাকা ব্যবহারে সহায়ক হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া সরাসরি মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ এমন খাতে ব্যয় করতে হবে, যেখান থেকে আয় আসবে এবং সেই আয় দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তবে এই অর্থ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বা অপ্রযোজ্য খাতে ব্যবহার করা হলে তা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়াবে। সরকারের বাজেট সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সরকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিতে বেশি আগ্রহী। ফলে নিয়মিতভাবে ঋণ পরিশোধের প্রবাহও বজায় থাকছে।

Go to News Site