Collector
পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি | Collector
পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি
Jagonews24

পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি

জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিবি, নয় তোকে টুকরো টুকরো করে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে অথবা এখানে রেখে পাগল বানিয়ে ঢাকা শহরে ছেড়ে দেওয়া হবে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন। রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মাওলানা মুফতি মো. শফিকুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার  রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সোমবার (৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন শফিকুল ইসলাম। জবানবন্দিতে শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তিনি কওমি মাদরাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করেছেন। তিনি মুফতি। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে তিনি স্নাতকোত্তর করেছেন। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর (পল্টন) অঞ্চলের সহসেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি জাপান গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নেওয়া হয় উল্লেখ করে জবানবন্দিতে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িটি এক জায়গায় গিয়ে ধীরে চলতে থাকে এবং গাড়িটি দাঁড়িয়ে যায়। দুজন লোক তাকে ধরে গাড়ি থেকে নামান। একপর্যায়ে তাকে ছোট একটি কক্ষে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর দুই–তিন দিন পর তাকে আরেকটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি চেয়ারে বসান। তাকে অনেক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বলা হয়। তখন তিনি বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে হুমকি দিয়ে বলে যে, এই চেয়ারে বসিয়ে শায়খ আবদুর রহমানকে, জসিম উদ্দিন রহমানীকে বসিয়ে সার্ফ এক্সেল দিয়ে ধুয়ে তাদের পেট থেকে সবকিছু বের করা হয়েছে, তোকেও তাই করা হবে। তাকে আরও বলা হয়, হয় জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিবি, নয় তোকে কেটে টুকরো টুকরো করে সমুদ্রের পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে অথবা এখানে রেখে পাগল বানিয়ে ঢাকা শহরে ছেড়ে দেওয়া হবে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি।’ এমন পরিবেশ তৈরি করা হয় যেন তাকে তখনই মেরে ফেলা হবে উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি। প্রহারের একপর্যায়ে আমি একজন অফিসারের দুই পা জড়িয়ে ধরে বলি, আমার বাচ্চার বয়স মাত্র দুই মাস, ওকে এতিম করবেন না, আমাকে যত পারেন প্রহার করেন, তবে আমাকে একবারে মেরে ফেলবেন না।’ শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এরপর তাকে পা থেকে উঠিয়ে চেয়ারে বসিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা বলতে থাকেন ‘সে (শফিকুল) খুবই রহস্যজনক, সহজে তার থেকে স্বীকারোক্তি আসবে না।’ জিজ্ঞাসাবাদকারীরা তার ঘুম কমিয়ে দিতে বলেন। শফিকুল ইসলামের জবানবন্দি অসমাপ্ত অবস্থায় কার্যক্রম মঙ্গলবার (৫ মে) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি হয়। তাদের মধ্যে ১০ আসামি গ্রেফতার হয়ে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। তারা হলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। এই মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তারা হলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম। এফএইচ/এসএনআর

Go to News Site