Collector
নেতিবাচকতার ভিড়ে যেভাবে থাকবেন ইতিবাচক | Collector
নেতিবাচকতার ভিড়ে যেভাবে থাকবেন ইতিবাচক
Jagonews24

নেতিবাচকতার ভিড়ে যেভাবে থাকবেন ইতিবাচক

চারপাশে যেন প্রতিনিয়ত অভিযোগ, হতাশা আর সমালোচনার শব্দ। কখনও সহকর্মী, কখনও বন্ধুবান্ধব, কেউ না কেউ এমনভাবে কথা বলেন, যা অজান্তেই আমাদের মনকে ভারী করে তোলে। ধীরে ধীরে এই নেতিবাচকতা শুধু মেজাজ নয়, কাজের মনোযোগ আর মানসিক শান্তিতেও প্রভাব ফেলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও, নিজের ভেতরের অবস্থান কি বদলানো যায়? উত্তর হলো, যায়। কিছু সচেতন অভ্যাস আর মানসিক কৌশল আয়ত্তে আনলেই নেতিবাচকতার মাঝেও নিজেকে রাখা সম্ভব ইতিবাচক, স্থির এবং শক্ত। মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তুললে অন্যের নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়াকে সামলান যখন কেউ কটু কথা বলে বা নেতিবাচক আচরণ করে, তখন মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা সেটিকে হুমকি হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে এবং আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে চাই। এই মুহূর্তে নিজেকে থামানোই মূল কৌশল। কথার জবাব দেওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড বিরতি নিন, গভীরভাবে শ্বাস নিন, কিংবা মনে মনে গুনতে থাকুন। এই ছোট বিরতিই আপনার যুক্তিনির্ভর চিন্তাকে সক্রিয় করে এবং আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া থেকে আপনাকে দূরে রাখে। ‘গ্রে রক’ কৌশল ব্যবহার করুন নেতিবাচক মানুষ অনেক সময় অন্যের প্রতিক্রিয়া থেকেই শক্তি পায়। আপনি যত বেশি আবেগ দেখাবেন, তারা তত বেশি জড়াতে চাইবে। এই পরিস্থিতিতে ‘গ্রে রক’ পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ, নিজেকে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ ও নিরাসক্ত রাখুন। ছোট ও সংক্ষিপ্ত উত্তর দিন। যেমন- ‘ঠিক আছে’, ‘হুম’, ‘আচ্ছা’। এতে তারা ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাবে। আরও পড়ুন:  বৃষ্টিতে স্ত্রীর জন্য ছাতা ধরলেন প্রধানমন্ত্রী, ভাইরাল মুহূর্ত সন্তান কি সত্যিই বাড়ায় দাম্পত্য দূরত্ব? চিৎকার নয়, বোঝাপড়ায় বড় হোক সন্তান সহমর্মিতা রাখুন, তবে নিজেকে হারাবেন না কেউ নেতিবাচক আচরণ করলে তার পেছনে ব্যক্তিগত কষ্ট, হতাশা বা অস্থিরতা থাকতে পারে। এটি বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সহমর্মিতা দেখাতে গিয়ে সেই নেতিবাচকতায় ডুবে যাওয়া উচিত নয়। মনে রাখুন, এটি আপনার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ নাও হতে পারে। এই মানসিক দূরত্ব বজায় রাখলে আপনি নিজেকে বেশি স্থির রাখতে পারবেন। নিজের সীমানা স্পষ্ট করুন আপনার মানসিক শান্তি রক্ষার দায়িত্ব একান্তই আপনার। কেউ যদি বারবার নেতিবাচকতা ছড়ায় বা আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে, তাহলে সীমা নির্ধারণ করুন।প্রয়োজনে ভদ্রভাবে জানিয়ে দিন, ‘এই ধরনের আলোচনায় আমি থাকতে চাই না’ অথবা ‘এটা নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না’। ‘না’ বলতে শেখা আত্মসম্মান বাড়ায় এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইতিবাচক ভাবনায় মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দিন মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি অভ্যাসের মাধ্যমে নিজেকে বদলাতে পারে, যাকে নিউরোপ্লাস্টিসিটি বলা হয়। নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পর সচেতনভাবে কিছু ভালো দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিনের শেষে অন্তত তিনটি কৃতজ্ঞতার বিষয় লিখে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ইতিবাচক চিন্তায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা মানেই সবকিছু এড়িয়ে চলা নয়; বরং নিজের ভেতরের স্থিরতা ও মানসিক শক্তিকে সুরক্ষিত রাখা। নিয়মিত ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুললে বাইরের পরিস্থিতি যেমনই হোক, আপনার ভেতরের জগৎ থাকবে শান্ত, স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রিত। তথ্যসূত্র: হেডস্পেস, টাইনিবুদ্ধা জেএস/

Go to News Site