Collector
বরিশালে নির্মাণের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল | Collector
বরিশালে নির্মাণের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
Jagonews24

বরিশালে নির্মাণের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

বরিশালে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত কিছুদিনে প্রায় দেড় হাজার শিশু এসব হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতাল দুটিতে শয্যাসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০০ শয্যার বরিশাল শিশু হাসপাতাল ৭ বছরেও চালু না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় শিশুদের জন্য বিশেষায়িত এই হাসপাতাল নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। প্রায় ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা হাসপাতালটির কার্যক্রম ২০১৯ সালেই চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের মূল অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও বিদ্যুতের সাবস্টেশন, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক কাঠামোর অভাবে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। আরও পড়ুন:খামারিদের লাভের স্বপ্নে ‘কাঁটা’ ভারতীয় গরুজ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল ব্যবসায় ধস শেবাচিম হাসপাতালের এক সহকারী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিশু হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শেবাচিমের শিশু ওয়ার্ডকে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। সেখানে মাত্র ৩৬টি শয্যা থাকলেও প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চার থেকে পাঁচগুণ বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। ফলে একই শয্যায় দুজন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে নবাগত বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান আকস্মিকভাবে শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, অক্সিজেন লাইন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সংযোগের কার্যকারিতা পরিদর্শন করেন। হামের রোগীদের আইসোলেশনের জন্য দ্রুত হাসপাতালটি প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগকে দ্রুত বিদ্যুৎ-সংযোগ ও সাবস্টেশন স্থাপনের কাজ শেষ করতে, ফায়ার সার্ভিসকে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ও সিটি করপোরেশনকে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর ই-ইলাহী বলেন, শিশু হাসপাতালের জন্য এখনো চিকিৎসক, নার্স কিংবা প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটি দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে। আরও পড়ুন:আলু চাষিদের ভাগ্য যেন উত্থান-পতনের গল্পবন্ধ চিনিকলে আটকা হাজারো শ্রমিক-চাষির ভাগ্য এদিকে দীর্ঘ ৭ বছরেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল শাখার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, একই সময়ে দেশের অন্যান্য জেলায় নির্মিত শিশু হাসপাতাল অনেক আগেই চালু হয়েছে। শুধু বরিশালের হাসপাতালটি অকার্যকর পড়ে থাকা দুঃখজনক। তিনি দাবি করেন, গণপূর্ত বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণেই এ বিলম্ব হয়েছে। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, দ্রুত হাসপাতালটি চালুর লক্ষ্যে অতিরিক্ত জনবল দিয়ে অবশিষ্ট কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হবে। এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে হবে, সে বিষয়ে এখনো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা চালু করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটির ২০০ শয্যার সক্ষমতা থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্টাফ নিয়োগ না হওয়ায় এটি চালু করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ-সংযোগ থাকলেও সাবস্টেশন স্থাপন হয়নি, কিছু অবকাঠামোগত কাজও বাকি রয়েছে। তবে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অবগত রয়েছে। শাওন খান/এমএন/এএসএম

Go to News Site