Somoy TV
গত মৌসুমে উয়েফা কনফারেন্স লিগ আর ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে চমক জাগিয়ছিল চেলসি। সুযোগ করে নিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। কিন্তু চলতি মৌসুমের শেষভাগে এসে দলটি পুরোপুরি ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। লা লিগায় একের পর এক হারে চেলসির আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব এক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।গত সোমবার (৪ মে) নটিংহ্যাম ফরেস্টের কাছে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে হারের পর প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় নবম স্থানে নেমে গেছে চেলসি। এই হারে ব্লুজদের পতন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সফরকারী নটিংহ্যাম ফরেস্টের হয়ে তাইও আওনিয়ি জোড়া গোল করেছেন। বাকি গোলটি পেনাল্টি থেকে করেন ইগর জেসুস।অতিরিক্ত সময়ে জোয়াও পেদ্রো অসাধারণ ওভারহেড কিকে একটি গোল ফিরিয়ে দিয়ে অন্তত একটি বিব্রতকর রেকর্ড থেকে চেলসিকে বাঁচিয়েছেন। ওই গোল না হলে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা ছয় ম্যাচ হেরে একটিও গোল না করার লজ্জায় পড়তে হতো ব্লুজদের। তবে সেটুকুই ছিল সামান্য সান্ত্বনা।এই হারের ফলে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো টানা ছয়টি লিগ ম্যাচে হেরেছে চেলসি। ক্লাব ইতিহাসে এমন ঘটনা মাত্র চতুর্থবার ঘটল। একই সঙ্গে এটি তাদের টানা চারটি হোম ম্যাচ হারার মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা; সর্বশেষ এমন হয়েছিল ১৯৭৮ সালে।স্টামফোর্ড ব্রিজে শেষ বাঁশি বাজার অনেক আগেই গ্যালারির বড় অংশ খালি হয়ে যায়। যারা ছিলেন, তারাও জোরালো দুয়োধ্বনিতে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেন। আরও পড়ুন: এভারটনের মাঠে পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়লো সিটিকোচ লিয়াম রোজেনিয়েরের বিদায়ের পর ক্যালাম ম্যাকফারলেন এখন ব্লুজদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে আছেন। এই হারের পর চেলসি পঞ্চম স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে। হাতে আছে আর মাত্র তিনটি ম্যাচ। অর্থাৎ সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পাওয়ার আশা শেষ তাদের।তবে, অ্যাস্টন ভিলা যদি ইউরোপা লিগ জিতে এবং লিগে পঞ্চম হয়, তাহলে ষষ্ঠ স্থান থেকেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু চেলসি বর্তমানে সেই স্থান থেকেও চার পয়েন্ট পিছিয়ে, আর বর্তমান ফর্মে সেই ব্যবধানও পুষিয়ে নেওয়া কঠিন।লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘার স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, 'এটা ভীষণ হতাশাজনক। সমস্যার শুরু ওপর থেকে। আজ মাঠে পাঁচ-ছয়জন শীর্ষমানের খেলোয়াড় ছিল, অথচ তারা নটিংহ্যাম ফরেস্টের দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হেরেছে।'তিনি আরও বলেন, 'এক বছরেরও কম সময় আগে চেলসি পিএসজিকে উড়িয়ে দিচ্ছিল। এখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচিং স্টাফের কোনো সংযোগ নেই, সমর্থকদের সঙ্গেও নেই। এই মুহূর্তে ক্লাবটিকে ভাঙা একটি ফুটবল ক্লাব মনে হচ্ছে।'চেলসির সাবেক গোলরক্ষক মার্ক শোয়ার্জার বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে বলেন, 'চেলসির অজুহাত এখন ফুরিয়ে আসছে।'আরও পড়ুন: রবিনিও জুনিয়রকে মারধরের অভিযোগে এবার ফেঁসে যাচ্ছেন নেইমার!তার ভাষায়, 'সামনে এফএ কাপের ফাইনালের মতো এত বড় একটি ম্যাচ থাকা সত্ত্বেও চেলসিকে মোটেও সেই তাড়না নিয়ে খেলতে দেখা যায়নি। তারা লড়াইয়ে হেরে গেছে, ইচ্ছাশক্তিরও অভাব ছিল। এখন খেলোয়াড়দেরই দায়িত্ব নিতে হবে।'চ্যাম্পিয়ন্স লিগে না উঠতে পারলে ক্ষতি কতটা হতে পারে? ব্লুজদের জন্য এই মৌসুমের প্রধান লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরা। সেটা না হলে ক্ষতি কয়েক দিক থেকে বড় হতে পারে।* আর্থিক ক্ষতি: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নিলে টিভি স্বত্ব, পুরস্কার অর্থ, ম্যাচডে আয়; সব মিলিয়ে বিপুল রাজস্ব আসে। সেই আয় না থাকলে গ্রীষ্মের দলবদলে চাপ বাড়বে।* খেলোয়াড় আকর্ষণ কমে যাওয়া: ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় না খেললে বড় তারকাদের দলে টানা কঠিন হয়ে যায়।* ক্লাবের প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন: গত কয়েক বছরে বিপুল বিনিয়োগের পরও লক্ষ্য পূরণ না হলে মালিকানার কৌশল নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হবে।* চাপ বাড়বে নতুন কোচের ওপর: আগামী মৌসুমে যে-ই স্থায়ী কোচ হন, শুরু থেকেই তাকে ফল এনে দেওয়ার বাড়তি চাপ নিতে হবে।তাই বলা যায়, চেলসির জন্য এটি শুধুই একটি ব্যর্থ মৌসুম নয়, বরং ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আর্থিক কাঠামো এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের জন্যও বড় ধাক্কা হতে পারে।
Go to News Site