Collector
জিয়াউর রহমানের খনন করা খাল এখন আবাদি জমি! | Collector
জিয়াউর রহমানের খনন করা খাল এখন আবাদি জমি!
Somoy TV

জিয়াউর রহমানের খনন করা খাল এখন আবাদি জমি!

দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চার দশক আগে কুড়িগ্রামে যে ‘সন্নাসী খাল’ খনন করা হয়েছিল, তা এখন অস্তিত্ব সংকটে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর দখলদারদের থাবায় খালের চিহ্ন মুছে যাচ্ছে। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় হাজার হাজার কৃষক। দ্রুত খালটি উদ্ধার করে পুনঃখননের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের সন্নাসী এলাকা থেকে টগরাইহাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের অধিকাংশ জায়গা এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। কোথাও চাষ হচ্ছে ধান ও ভুট্টা, আবার কোথাও গড়ে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি ও স্থায়ী স্থাপনা। এমনকি খালের সরকারি জমি কেনাবেচার অভিযোগও উঠেছে।স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এসে এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সে সময় খালের সুবিধা নিয়ে দুই পাড়ের মানুষ স্বল্প খরচে সেচ ও মাছ চাষের সুযোগ পেত।সন্নাসী এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম সেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'প্রায় ৪৫ বছর আগে জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে এই খালের উদ্বোধন করেছিলেন। আজ সেই খালের ওপর মানুষ ঘরবাড়ি তুলেছে, আবাদ করছে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন আর আগের মতো সেচ সুবিধা পাই না।'টগরাই হাট এলাকার বাসিন্দা আল আমিন জানান, খালটি পুনঃখনন করা হলে কেবল সরকারি জমিই উদ্ধার হবে না, বরং দুই পাড়ের শত শত কৃষকের ভাগ্য বদলে যাবে।স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, 'খালটি এখন আবাদি জমি আর বসতভিটায় রূপ নিয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার করে এটি আবার খনন করা কৃষকদের প্রাণের দাবি।'আরও পড়ুন: নদী বা খালে পলিথিন-বর্জ্য না ফেলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরএদিকে, কৃষিতে গতি ফেরাতে সন্নাসী খালসহ জেলার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় একটি করে এবং ভূরুঙ্গামারীতে দুটি খালের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৩৫ কিলোমিটার।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে সন্নাসী খালসহ অন্য খালগুলো খননের প্রস্তাবনা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Go to News Site