Collector
চীন ও ভারতের কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন তো? | Collector
চীন ও ভারতের কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন তো?
Somoy TV

চীন ও ভারতের কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন তো?

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চায়না নেই ফুটবল বিশ্বকাপে। ২০০২ সালে চীন বিশ্বকাপে খেললেও ভারত কখনোই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এমনকি দেশ দুটির কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত মহাযজ্ঞ সরাসরি দেখার সুযোগ নাও পেতে পারেন। কারণ ভারতে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, আর চীনে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই হয়নি।সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে সোমবার (৪ মে) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতে রিলায়েন্স-দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি যৌথ উদ্যোগ ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের জন্য ২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু ফিফার চাওয়া অঙ্কের তুলনায় তা অনেক কম হওয়ায় প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। একই সময়ে সনি গ্রুপও ভারতের স্বত্ব নিয়ে আলোচনা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তারাও কোনো প্রস্তাব দেয়নি বলে বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি জানা একটি সূত্র জানিয়েছে।চীনের ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তির ঘোষণা আসেনি। অথচ ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোট দর্শনঘণ্টার ৪৯.৮ শতাংশই এসেছিল চীন থেকে। এই পর্যায়ে এসে ভারত বা চীনের সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়াটা বেশ অস্বাভাবিক।আগের বিশ্বকাপগুলোতে, বিশেষ করে ২০১৮ এবং ২০২২ এর আসরে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন অনেক আগেই স্বত্ব নিশ্চিত করেছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই তারা প্রচারণামূলক কনটেন্ট ও স্পনসরভিত্তিক বিজ্ঞাপন সম্প্রচার শুরু করেছিল।টেলিভিশন ও ডিজিটাল এই দুই প্ল্যাটফর্মেই ব্যাপক উপস্থিতি থাকা সিসিটিভি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। আরও পড়ুন: চেলসির টানা ষষ্ঠ হার, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে না পারলে কী ক্ষতি হবে?২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক লিনিয়ার টিভি দর্শকের ১৭.৭ শতাংশ ছিল চীন থেকে এবং ২.৯ শতাংশ ছিল ভারত থেকে। আর ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ে এই দুই দেশ মিলিয়ে মোট বৈশ্বিক দর্শকের ২২.৬ শতাংশ এসেছে।২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠে গড়াবে ১১ জুন। অর্থাৎ এখন হাতে আছে মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মতো সময়। এর মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত করা, সম্প্রচার অবকাঠামো প্রস্তুত করা এবং বিজ্ঞাপনের স্লট বিক্রি করতে হবে।সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতের জন্য ফিফা শুরুতে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ ১০ কোটি মার্কিন ডলার চেয়েছিল।সবশেষ ২০২২ সালে যখন বিশ্বকাপ ভারতে সম্প্রচারিত হয়েছিল, তখন রিলায়েন্সের আলাদা মিডিয়া বিভাগ প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলারে স্বত্ব কিনেছিল। কাতারে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টের প্রায় ১৪ মাস আগেই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই বিশ্বকাপে তাদের প্ল্যাটফর্মজুড়ে ১১ কোটির বেশি ডিজিটাল দর্শক ছিল। আরও পড়ুন: রবিনিও জুনিয়রকে মারধরের অভিযোগে এবার ফেঁসে যাচ্ছেন নেইমার!এরপর রিলায়েন্স ও ডিজনি যৌথ উদ্যোগ গড়ে ভারতের মিডিয়া ও স্ট্রিমিং বাজারে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবার ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেখাচ্ছে যে ভারতীয় এই গ্রুপটি দরকষাকষিতে কতটা শক্ত অবস্থানে আছে।একটি সূত্র জানিয়েছে, ফিফা আগের ১০ কোটি ডলারের দাবি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। কিন্তু রিলায়েন্সের ২ কোটি ডলারের প্রস্তাবে এখনো তারা আগ্রহী নয়।রিলায়েন্স-ডিজনির ধারণা, এবার বিশ্বকাপের দর্শকসংখ্যা ভারতে তুলনামূলক কম হতে পারে। কারণ টুর্নামেন্টটি হবে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোয়। ফলে ভারতের সময় অনুযায়ী বেশিরভাগ ম্যাচই মধ্যরাতের পর সম্প্রচার হবে। তাই বিপুল অর্থ বিনিয়োগে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Go to News Site