Collector
গোপাল, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই আম পাড়া শুরু হলো সাতক্ষীরায় | Collector
গোপাল, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই আম পাড়া শুরু হলো সাতক্ষীরায়
Somoy TV

গোপাল, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই আম পাড়া শুরু হলো সাতক্ষীরায়

সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম মঙ্গলবার (৫ মে) থেকে বাজারে উঠতে শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই জেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আগে সাতক্ষীরার আম বাজারে আসায় এর চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বরাবরই শীর্ষে থাকে। লাভবানও হয় বেশি বাগান মালিকরা। তবে কালবৈশাখী ঝড় নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকে আম চাষিরা।সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামের একটি আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণু পদ পাল। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্তের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেনসহ আম চাষিরা।জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় প্রায় ৩২০টি আমবাগান রয়েছে এবং এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছেন ৫০ হাজারের বেশি চাষি ও ব্যবসায়ী। চলতি মৌসুমে জেলায় জেলা প্রশাসনের দেয়া নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই সহ দেশী জাতের বিভিন্ন আম। ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ। এদিকে আম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা বাগান পরিদর্শন ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।তবে মৌসুম শুরুর আগেই নানা সংকটে পড়েছেন স্থানীয় আম চাষিরা। কৃষকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের সময়সূচি দেরিতে হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে সাতক্ষীরার জলবায়ুর কারণে এখানকার আম দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পেকে যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহের অনুমতি না থাকায় অনেক পাকা আম গাছ থেকে ঝরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। ঝড়ে গাছভর্তি পাকা আম ঝরে পড়ে যায় তাহলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানালন আম চাষিরা। এছাড়াও আম চাষিদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেটের কারনে ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। দরকার হিমাগারের বলে জানিয়েছেন আম চাষি ও ব্যবসায়িরা।আরও পড়ুন: বেশি লাভের আশায় কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীলাখ লাখ টাকায় আমের বাগান কিনেছেন উল্লেখ করে আম চাষিরা জানান,  বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতি হলেও এখনো গাছে যে আম রয়েছে, ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হবেন বাগান মালিকরা।সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানিয়েছেন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে আম পাকানো বা বাজারজাত করা যাবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণু পদ পাল আম চাষিদের দাবি পুরনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, অধিক লাভের আশায় কেউ অপরিপক্ক আম বাজারজাত না করতে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে দেয়া তথ্যে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি আমের বাগান রয়েছে।  আর ১৩ হাজার একশো জন আম চাষি কাজ করে যাচ্ছেন। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে ২ শ’ মেট্রিক টন আম দেশের বাইরে রপ্তানি হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

Go to News Site