Collector
বিজেপির ‘এজেন্ট’ হয়ে মমতার তৃণমূলের পতন ঘটিয়েছেন মেসি! | Collector
বিজেপির ‘এজেন্ট’ হয়ে মমতার তৃণমূলের পতন ঘটিয়েছেন মেসি!
Somoy TV

বিজেপির ‘এজেন্ট’ হয়ে মমতার তৃণমূলের পতন ঘটিয়েছেন মেসি!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যটির ক্ষমতায় এসেছে তারা।গতকাল (৪ মে) ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই উদ্‌যাপন শুরু হয়। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনে অপ্রত্যাশিতভাবে উঠে আসে লিওনেল মেসির নাম।বিজেপির বড় জয়ের প্রবণতা স্পষ্ট হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মজার ছলে পোস্টের বন্যা শুরু হয়। অনেকে ২০২৫ সালে আর্জেন্টাইন মহাতারকার কলকাতা সফরের সঙ্গে এই নির্বাচনী ফলকে জুড়ে দেন। মুহূর্তেই রাজনীতির ফলাফল পরিণত হয় কৌতুক, মিম ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের উপকরণে।একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মেসি ২০১১ সালে কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গের সরকার বদলে দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে আবার এলেন, আবার সরকার বদলে গেল। গোটের (সর্বকালের সেরা) ক্ষমতা অবিশ্বাস্য!’আরও অনেকে মজা করে বলেন, মেসি নাকি বিজেপির ‘এজেন্ট’ হয়ে রাজ্যে তৃণমূলের পতন ত্বরান্বিত করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পর লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের ঘটনা মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম বানাচ্ছে নেটিজেনরা। ছবি: স্ক্রিনশট আরও পড়ুন: চীন ও ভারতের কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন তো?কারও মন্তব্য, ‘বিজেপির এজেন্ট মেসিই দিদির পতনের সূচনা করলেন।’ আবার কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে মেসি, নরেন্দ্র মোদির চেয়েও বেশি কাজ করেছেন।’অবশ্য এই হাস্যরসের পেছনে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক অতীতের একটি বাস্তব বিতর্ক; কলকাতার যুব ভারতী স্টেডিয়ামে মেসির বরণ অনুষ্ঠান। যে ঘটনা স্মরণীয় হয়ে থাকার কথা, সেটিই দ্রুত বিশৃঙ্খলায় বিতর্কেত কেন্দ্রে চলে আসে। ছবি: স্ক্রিনশটমেসিকে এক নজর দেখতে উচ্চমূল্যে টিকিট কাটা দর্শকদের অনেকেই হতাশ হন, কারণ মাঠে আর্জেন্টাইন মহাতারকার উপস্থিতি ছিল ১০ মিনিটেরও কম। রাজনীতিবিদ, কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের ভিড়ে ঘেরা অবস্থায় আর্জেন্টাইন তারকা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও সম্পূর্ণ করতে পারেননি। এতে গ্যালারিতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দর্শকদের একাংশ বোতল ছোড়েন, ভাঙচুর করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে হিমশিম খান। ক্ষুব্ধ সমর্থক ও বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যে অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের হওয়ার কথা ছিল, সেটি জনসংযোগের বড় বিপর্যয়ে পরিণত হয়।ঘটনার পরপরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রধান সংগঠককে আটকও করে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাতও শুরু হয়। বিজেপি রাজ্য সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানায়।এরপর নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে ‘মেসি বিতর্ক’ বিজেপির প্রচারণার অংশ হয়ে ওঠে। ছবি: স্ক্রিনশোট আরও পড়ুন: রবিনিও জুনিয়রকে মারধরের অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন নেইমার!একাধিক প্রচারণা ভিডিওতে দলটি অভিযোগ করে, তৃণমূল কলকাতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিব্রত করেছে। দীর্ঘদিনের সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতির শহর হিসেবে পরিচিত কলকাতায় এই ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।কয়েক মাস পর, যখন উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও বিজেপির জয়ের ধারা স্পষ্ট হয়, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা মজার ছলে আবারও দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র টানেন। Remember how TMC brought international shame to the City of Joy by driving away Lionel Messi. Mahajungle Raj spared no one. Bengal’s great Sports culture needs to be brought back. pic.twitter.com/POdMXBOhjz— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) April 26, 2026 অবশ্য বাস্তবে নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হয়েছে নানা রাজনৈতিক কারণে, সরকারবিরোধী মনোভাব, সংগঠনের শক্তি, মাঠপর্যায়ের প্রচারণা এবং সবচেয়ে বড় ইস্যু ‘এসআইআর’ বা ভোটার তালিকা সংশোধন তার মধ্যে অন্যতম।তবে ইন্টারনেটের গল্পটা ছিল অনেক সহজ। ব্যালট বাক্সের নাটকীয় ফলাফল ছাপিয়ে অন্তত মিমের জগতে লিওনেল মেসি আরও একবার ইতিহাস গড়ে ফেললেন।

Go to News Site