Jagonews24
নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণে ১১ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলার আসামিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে অজ্ঞাত স্থান থেকে দেওয়া ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আখতারুজ্জামান জানান, প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে জেলা হাসপাতালেও সরকারি পরীক্ষায় একই ফল পাওয়া যায়। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিকে ধরতে সোমবার (৪ মে) দিনগত গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়েছে। কার্যক্রম এখনো চলমান। খুব শিগগির তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’ আরও পড়ুন: ডাক্তারের প্রশ্ন—তোমার সঙ্গে এ কাজ কে করেছে? মেয়েটি বলে ‘হুজুর হুজুর’ এদিকে ভাইরাল হওয়া প্রায় ৫ মিনিটের ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের ‘অসুস্থতার’ কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি বর্তমানে কথা বলতে কষ্ট পাচ্ছেন। তবুও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান। তিনি দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করার আহ্বানও জানান তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করতো। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটির মা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাকে আমার স্বামী ছেড়ে চলে গেছে। ছোট তিন ছেলে ও এক মেয়ে লইয়া খুব কষ্ট করি। জীবিকার তাগিদে সিলেটে মানুষের বাসায় কাম করি। মেয়েডারে আমার বাপের বাড়িতে রাইখ্যা কষ্ট কইরা মাদরাসায় লেখাপড়া করাতে দিছিলাম। কিন্তু হুজুর আমার এই শিশু বাচ্চাটার সঙ্গে এমন পিশাচের মতো কাজ করতে পারলো! আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবছিলাম না। এই ঘটনায় আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক সাইমা আক্তারও এখন নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার স্বামী জানান, একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর থেকেই তিনি সাইবার বুলিং, হুমকি এবং মানসিক চাপে রয়েছেন। এমনকি তার পেশাগত জীবন ধ্বংসের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ নেন। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটিকে পুষ্টিকর খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি জানান, শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এইচ এম কামাল/এসআর/এমএস
Go to News Site