Collector
৭৮ বছরের বৃদ্ধাকে থানার ছাদে নিয়ে অপেশাদার ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসাবাদ | Collector
৭৮ বছরের বৃদ্ধাকে থানার ছাদে নিয়ে অপেশাদার ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসাবাদ
Jagonews24

৭৮ বছরের বৃদ্ধাকে থানার ছাদে নিয়ে অপেশাদার ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসাবাদ

কুমিল্লার হোমনা থানায় সামফুলের নেছা (৭৮) নামের এক বৃদ্ধার লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে উল্টো ভুক্তভোগীকে থানার ছাদে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে রোববার (৩ মে) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই বৃদ্ধা। এতে পুত্রবধূ আমেনা (৩০), ইয়াছমিন (৩৫), সামসুন নাহার (৪৮), হাসিনা (৪২) এবং ছেলে আতাউর রহমান (৩৫), গিয়াস উদ্দিন (৫০), ছানাউল্লাহ (৫৩) ও মজিবুর রহমানের (৫৫) বিরুদ্ধে তাকে মারধর, চুলে ধরে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনেন তিনি। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ মে সকালে অভিযুক্তরা সামফুলের নেছার ওপর আক্রমণ চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হোমনা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া এ অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে জানান। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোমবার ৪ মে) সন্ধ্যায় তদন্তের নামে ওই বৃদ্ধাকে বিধিবহির্ভূতভাবে থানার ছাদে নিয়ে জেরা করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসআই তাপস কুমার সরকার থানার ছাদে একটি কংক্রিটের ছোট পিলারের ওপর অত্যন্ত অপেশাদার ভঙ্গিতে বসে আছেন। তার এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট এবং বসার ধরন ছিল একজন ভুক্তভোগীর প্রতি অবজ্ঞার শামিল। কোনো নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি এবং যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এসআই তাপসকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে। এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌‘এসআই তাপস যা করেছেন তা সম্পূর্ণ অপেশাদার কাজ। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’ ভুক্তভোগীর করা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী সামফুলের নেছা বলেন, ‘থানার চারতলার ছাদে নিয়ে আমাকে জেরা করেছে। আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। আমার শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখতে চেয়েছে। রাতে বলেছে এক কথা আর এখন বলে আরেক কথা। অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা ঘুরে গেছে।’ তবে এসআই তাপস কুমার সরকারকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর/এমএস

Go to News Site