Somoy TV
বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে হঠাৎ গোলাগুলির পর কাঁটাতার ঘেঁষে ফের অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।শূন্যরেখার কাছাকাছি ফাঁকা আস্তানায় নিজেদের পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি সেখানে সশস্ত্র নারী ও পুরুষ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এ ঘটনায় সীমান্তঘেঁষা মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবানের জলপাইতলী অংশ। এক মাস আগেও কাঁটাতার ঘেঁষে মিয়ানমারের ভেতরে থাকা আরাকান আর্মির ফাঁকা আস্তানায় এখন উড়ছে পতাকা। অবস্থান নিয়েছে পুরুষ ও নারী সদস্যরা। জলপাইতলীর পাশাপাশি মিয়ানমারের ঢেকুবনিয়া ফকিরপাড়া ক্যাম্পেও অবস্থান নিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সময় সংবাদের ক্যামেরায় তাদের এই উপস্থিতি ধরা পড়ে। সীমান্তবাসীর দাবি, প্রায় এক মাস পর সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় আধাঘণ্টা ধরে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে সীমান্তঘেঁষা ওই এলাকাগুলোতে নতুন করে অবস্থান নেয় আরাকান আর্মি। বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের পূর্বপাড়ায় সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে বসবাস হামিদুল হকের। তিনি জানান, সোমবার মাগরিবের নামাজের পর হঠাৎ করে সীমান্ত এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়। জলপাইতলী এলাকা এবং ঢেকুবুনিয়া ক্যাম্পসংলগ্ন দুই দিক থেকেই এলোপাতাড়ি গুলির আওয়াজ ভেসে আসে। হামিদুল হক আরও জানান, দীর্ঘদিন ওই এলাকায় আরাকান আর্মির তেমন কোনো উপস্থিতি না থাকলেও হঠাৎ করে তাদের অবস্থান ও গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। কৃষক, মাছচাষি ও খামারিরা নিরাপত্তা শঙ্কায় দৈনন্দিন কাজে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। আরও পড়ুন: সাগরপথে মানবপাচার: বিভীষিকাময় অতীতের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা সীমান্তের জলপাইতলী ও জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি বাসিন্দারাও চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ৮৬ বছর বয়সি মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুরু হয়। পরপর গুলির শব্দে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে ঘর থেকে বের হয়ে অন্য স্থানে আশ্রয় নিই। পরে মঙ্গলবার সকালে ঘরে ফিরে আসি। খুব ভয় পেয়েছি।’ ইজিবাইক চালক রফিক বলেন, ‘গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুরু হলে ভয়ে যাত্রীসহ ঘণ্টাখানেক নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলাম। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।’ বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের জলপাইতলী অংশে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আরাকান আর্মির আস্তানা, যেখানে উড়তে দেখা যাচ্ছে তাদের পতাকা। ছবি: সময় সংবাদ নুরুল আবছার নামের আরেক বাসিন্দা জানান, তার বাড়ি জিরো পয়েন্টের একেবারে কাছাকাছি। হঠাৎ গুলির শব্দে মনে হচ্ছিল যেন বাড়িতেই গুলি এসে পড়ছে। ২০ মিনিট পর গোলাগুলি কিছুটা থেমে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ১৮ বছর বয়সি মো. সায়মন জানান, গোলাগুলির সময় প্রায় ১০০ রাউন্ডের মতো গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে ঠিক কী ঘটেছে তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। আরও পড়ুন: খাদ্যে সহায়তা কমায় রোহিঙ্গাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এদিকে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। বাড়ানো হয়েছে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনা সম্পূর্ণভাবে সে দেশের নিজস্ব বিষয়। সেখানে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী রয়েছে, যারা নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়াতে পারে।’ তিনি জানান, সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে তা বাংলাদেশের সীমানা থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার ভেতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তবাসীর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বিজিবির টহল ও নজরদারি সব সময়ই সক্রিয় রয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বদা সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছি।’ উল্লেখ্য, বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত ঘেঁষে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস রয়েছে।
Go to News Site