Jagonews24
জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাক্তন স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করে নানা চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও তার স্বজনরা। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে ইসলামপুর উপজেলার চিনারচর এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা অভিযুক্তদের যুবদল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অভিযুক্ত শাহানুর রহমান পলাশ চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব। তিনি ওই নারীর প্রাক্তন স্বামী। আরেক অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুসে একই ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শাহানুর রহমান পলাশ জুয়া ও নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ করে জানান, তার সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয়। প্রায় এক বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গত ২৮ এপ্রিল ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন। তবে মামলা তুলে নিতে পলাশ তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারীর প্রাক্তন স্বামী অভিযুক্ত শাহানুর রহমান পলাশ মোবাইলফোনে বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষরা আমার প্রাক্তন স্ত্রীকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। ছবি ও ভিডিও আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করিনি।’ মাদক কারবারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিপক্ষরা আমার প্রাক্তন স্ত্রীকে দিয়ে এসব মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে।’ আরেক অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমি এই মেয়েকে চিনতামও না, জানতামও না সে পলাশের বউ। যখন এসব ছবি ফেসবুকে আসে, তখন পলাশের কাছে জানতে পারি সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাদের ছবি ও ভিডিও\'র ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’ তিনি বলেন, ‘সামনে আমি মেম্বার প্রার্থী (ইউপি সদস্য)। তাই অন্যান্য যারা প্রার্থী আছে তারা এই মেয়েকে দিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে।’ বিষয়টি নিয়ে ইসলামপুর যুবদলের আহ্বায়ক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানি। মৌখিকভাবে শুনেছি। জেলা থেকে একটি তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছে। আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য জেলায় পাঠাবো। পরে জেলা থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে তা মেনে নেওয়া হবে।’ জামালপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সজীব খান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আরও এক মাস আগে আমরা অবগত হয়েছি। উপজেলা যুবদলের দ্বায়িত্বশীলদের তদন্ত করে একটি প্রস্তাবনা আমাদের কাছে পাঠাতে বলেছি। প্রস্তাবনা এলেইই আমরা ব্যবস্থা নেবো। তাদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’ মামলার বিষয়ে ইসলামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো থানায় কোনো নথি আসেনি। এলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসআর/এমএস
Go to News Site