Somoy TV
ডলারের দুর্বলতার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম কমায় মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এসেছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (৬ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৩৩.৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৪,৬৪৩.২০ ডলারে পৌঁছেছে।মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথে অগ্রগতি হচ্ছে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য চলমান একটি অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। আরও পড়ুন: বৈশ্বিক অস্থিরতায় ব্যর্থ ‘সেফ হ্যাভেন’ স্বর্ণ, নগদ অর্থেই ভরসা বিনিয়োগকারীদের!ওএএনডিএ-র সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওং বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সংঘর্ষের ঘটনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় রয়েছে। এতে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমেছে এবং তেলের দামও নেমেছে, যা স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করেছে।ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতের পর মার্কিন ডলার ও অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার-মূল্যের স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে, তেলের দাম বেশি থাকলে তা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ায়। যদিও স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার মুনাফাদায়ক সম্পদকে বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে, ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যেতে পারে।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্ত হয়েছে,' এবং তিনি বলেন, 'আমরা চাই না এমন পরিস্থিতি আবার তৈরি হোক।'ওং আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে আবার উত্তেজনা বাড়ার লক্ষণ দেখা দিলে স্বর্ণের দামে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, কিংবা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা তাদের অবস্থান কমিয়ে নিতে পারেন।এখন বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অ-কৃষি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তথ্য থেকে বোঝা যাবে অর্থনীতি কতটা শক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে নাকি কমানোর দিকে যেতে পারে।এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হতে পারে। আরও পড়ুন: দেশে স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমলো কত?এর আগে সবশেষ গত ৫ মে সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।অন্যদিকে বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৪.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে ১,৯৮৬.২৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.১ শতাংশ বেড়ে ১,৫১৬.৪৪ ডলারে পৌঁছেছে।
Go to News Site